শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

নেতাদের চাপের অভিযোগ, ফুলবাড়ীয়ায় ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় নানা অসংগতি

জেলা প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৬ পিএম

শেয়ার করুন:

নেতাদের চাপের অভিযোগ, ফুলবাড়ীয়ায় ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় নানা অসংগতি
সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের শুমারির জন্য সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীদের চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক নেতাদের চাপে তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তালিকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতার নাম, দুই ইউনিয়নে আপন ভাই-বোন ও স্বামী-স্ত্রীর নাম এবং একই ওয়ার্ড থেকে চারজন তথ্য সংগ্রহকারীর নাম থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা চলছে।

গত ১২ আগস্ট চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। সমালোচনা এড়াতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ‘Uno Fulbaria’-এর কমেন্ট অপশন বন্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা থেকে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ জন আবেদন করেন। প্রচণ্ড গরম ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে প্রার্থীদের মধ্যে আশা ছিল, মেধার ভিত্তিতেই নিয়োগ দেওয়া হবে।

তবে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, নাওগাঁও ইউনিয়নে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতার নাম রয়েছে। ফুলবাড়ীয়া পৌরসভায় আপন ভাই-বোনের নাম, অন্য একটি ইউনিয়নে স্বামী-স্ত্রীর নাম এবং সমাজসেবা কর্মকর্তার নিজ ইউনিয়ন বাকতার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে চারজন তথ্য সংগ্রহকারীর নাম দেওয়া হয়েছে। একই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতার মেয়ের নামও তালিকায় রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আবেদনকারী কয়েকজনের অভিযোগ, মেধা যাচাইয়ের কথা বলে তাদের সঙ্গে তামাশা করা হয়েছে। তাদের দাবি, ফুলবাড়ীয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হকের বাড়ি বাকতা ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে। তিনি ২০২২ সাল থেকে নিজ উপজেলায় কর্মরত। সাড়ে চার বছর পর বদলি হলেও অন্য উপজেলায় যোগদান না করে আবারও নিজ উপজেলায় যোগদান করেছেন। দীর্ঘদিন নিজ উপজেলায় চাকরি করার সুবাদে ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় তার একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন ভাতা বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিশেষ করে রাধাকানাই ইউনিয়নে প্রকৃতপক্ষে সুস্থ ব্যক্তিদের প্রতিবন্ধী দেখিয়ে প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়ার মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক বলেন, রাজনৈতিক চাপের কারণে মেধার সঠিক মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়নি। চূড়ান্ত তালিকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা, আপন ভাই-বোন ও স্বামী-স্ত্রীর নাম থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকায় কোনো অসংগতি থাকলে এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের কেউ থাকলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর