সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে চিকিৎসাধীন আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। ফলে চলতি বছরের শুরু থেকে বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫৬ জনে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত দৈনিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুই শিশুর একজনের বয়স পাঁচ মাস। সে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। তার বাড়ি টুকেরবাজার এলাকায়। অপর শিশুটির বয়স ১১ মাস। সে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। তার বাড়ি জকিগঞ্জের ওয়াসার এলাকায়।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৬৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৮ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৩ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনজন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে আটজন এবং হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে একজন ভর্তি হয়েছে।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে ২৮৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি আছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১২০ জন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯০ জন। এছাড়া রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬ জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে একজন ও নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ছয়জন চিকিৎসাধীন। বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা হাসপাতালেও আরও রোগী ভর্তি রয়েছেন।
জেলাভিত্তিক হিসাবে, বছরের শুরু থেকে সিলেটে ৩০৫ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হবিগঞ্জে ১৪৮, মৌলভীবাজারে ১৪৬ এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। প্রতিবেদনে হবিগঞ্জের দুই রোগীর রুবেলা আক্রান্ত হওয়ার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
মৃত্যুর পরিসংখ্যানেও উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। সিলেটে সন্দেহজনক হাম রোগে এ পর্যন্ত ৪৬ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। হবিগঞ্জে সন্দেহজনক হাম রোগে মারা গেছেন ১৭ জন। সেখানে নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর কোনো তথ্য নেই।
অন্যদিকে মৌলভীবাজারে সন্দেহজনক হাম রোগে ১২ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সুনামগঞ্জে সন্দেহজনক হাম রোগে ৫৪ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে একজন মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে মোট ১৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সন্দেহজনক হাম রোগে ১২৯ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে ছয়জন মারা গেছেন।
প্রতিনিধি/এসএস




