আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের নিয়ে শরীয়তপুরে প্রকাশ্যে মিছিল ও পথসভা করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এতে শতাধিক নেতা-কর্মী ও সমর্থক অংশ নেন বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় শরীয়তপুর সদর উপজেলার গঙ্গানগর বাজারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলের নেতৃত্ব দেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিথুন ঢালী। তিনি সদর উপজেলার গঙ্গানগর এলাকার বাসিন্দা।
মিছিল ও পথসভার কয়েকটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে মিথুন ঢালীকে স্লোগান দিতে এবং পরে পথসভায় বক্তব্য দিতে দেখা যায়। তার সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীদেরও বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, ডোমসার-গঙ্গানগর-কাজিরহাট সড়কের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে মিছিলটি গঙ্গানগর বাজারে প্রবেশ করে। মিছিলের সামনে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল—‘১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ২০২৬, শোক থেকে শক্তি, শোক থেকে জাগরণ’। ব্যানারে শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহতদের পরিবারের সদস্যদের ছবি ছিল।
এ ছাড়া ব্যানারে শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম এবং জাজিরা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোবারক আলী শিকদারের ছবিও ছিল।

মিছিলকারীদের কয়েকজনের হাতে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকাও ছিল। মিছিলটি বাজারের শেষ প্রান্তে গিয়ে সড়কের ওপর সংক্ষিপ্ত পথসভায় পরিণত হয়। সেখানে বক্তব্য দেন মিথুন ঢালি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৫ আগস্টকে সামনে রেখে ওই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার মধ্যে প্রকাশ্যে এমন কর্মসূচির ঘটনায় এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে।
কর্মসূচির খবর পেয়ে পালং মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলকারীদের অনেকে সেখান থেকে সরে যান। পরে অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করা হয়।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতার নেতৃত্বে শরীয়তপুরে মিছিল হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়ার পরই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলকারীরা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শরীয়তপুরের অনেক নেতা-কর্মী আত্মগোপনে চলে যান। পরে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা মিছিলসহ নানা কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস




