বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নের চরগুপ্তদিয়া গ্রামের শাহানবাগান এলাকায় ১৬ বিঘা মাছের ঘেরের মালিক মো. শামীম হাসান শিকদারের বিরুদ্ধে নিজের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে কর্মচারীকে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় লোকজনকে মামলা দিয়ে হয়রানি এবং সরকারি খাল ও জমি দখলের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে গেলে ভুক্তভোগীরা এসব অভিযোগ করেন।
ঘেরের সাবেক কর্মচারী রফিকের অভিযোগ, ২০১৮ সালে শামীম হাসান শিকদার নিজেই তার মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে উল্টো তাকে আসামি করে প্রায় আট লাখ টাকার মামলা করেন। ওই মামলায় চার থেকে পাঁচ বছর তাকে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

রফিক বলেন, ‘শামীম স্যার নিজেই তার ঘেরে বিষ দিয়ে আমার নামে আট লাখ টাকার মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। এলাকার সবাই জানে আমি কেমন ছেলে। এরপরও আমাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। মামলা হওয়ার পর চার-পাঁচ বছর হয়রানির শিকার হয়েছি। ঠিকমতো কাজ করতে পারিনি। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে। আমরা গরিব মানুষ, তার সঙ্গে পেরে উঠিনি।’
ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীর বিচার দাবি করেন রফিক।

রফিকের আরও অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে শামীম হাসান শিকদার স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তিকে মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। পাশাপাশি সরকারি খাল ও জমি দখল করে বাড়ি ও বিভিন্ন প্রকল্প গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এলাকার প্রায় ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা বলেন, ‘আগের সরকারের আমলে শামীম হাসান এলাকায় বিভিন্ন মানুষকে হয়রানি করেছেন। অনেককে মামলা দিয়ে জেল খাটিয়েছেন। আমার ভাইপোকেও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। আমরা তার ভয়ে কথা বলতে পারতাম না। এলাকার মানুষ অনেকটা জিম্মি হয়ে ছিল। আমরা এসব ঘটনার বিচার চাই।’

তবে শামীম হাসান শিকদারের কাছ থেকে ১৬ বিঘা জমি লিজ নেওয়া সাগর মোল্লা বলেন, তিনি তিন বছরের জন্য সাড়ে ১৬ লাখ টাকায় জমিটি লিজ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে দুই বছর পার হয়েছে, আর এক বছর বাকি। লিজের জমির মধ্যে সরকারি খাল থাকলে জমি বুঝে নেওয়ার সময় বিষয়টি দেখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তিন বছরের মেয়াদ শেষ হলে আমি প্রজেক্ট ছেড়ে দেব।’
ভুক্তভোগীদের দাবি, শামীম হাসান শিকদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা হোক। বিশেষ করে ঘেরে বিষ প্রয়োগের ঘটনায় রফিকের বিরুদ্ধে করা মামলাটি পুনঃতদন্ত করে মামলা দায়েরের পেছনের প্রকৃত ঘটনা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চরগুপ্তদিয়া এলাকায় শামীম হাসান শিকদারের বিরুদ্ধে আরও কয়েকজন হয়রানি ও জমি দখলের অভিযোগ করেছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলা, জমির রেকর্ড ও অন্যান্য নথি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে মো. শামীম হাসান শিকদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
প্রতিনিধি/এসএস




