শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ফাঁসিয়াখালীতে ফিরছে সবুজ, বাড়ছে বন্যপ্রাণীর বিচরণ

তাহজীবুল আনাম, কক্সবাজার
প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৬ এএম

শেয়ার করুন:

ফাঁসিয়াখালীতে ফিরছে সবুজ, বাড়ছে বন্যপ্রাণীর বিচরণ

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফাঁসিয়াখালীতে বদলে যাচ্ছে বনভূমির চিত্র। একসময় ন্যাড়া হয়ে যাওয়া পাহাড়ে ফিরেছে সবুজ। নতুন করে বেড়ে উঠছে নানা প্রজাতির বৃক্ষরাজি। একই সঙ্গে বনে দেখা মিলছে এশীয় হাতি, বানর, শিয়ালসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর।

বন বিভাগ বলছে, বন রক্ষায় নিয়মিত অভিযান ও দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ফলে ফাঁসিয়াখালীতে বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

ফাঁসিয়াখালী বিট অফিস সূত্রে জানা যায়, বিটের আওতাধীন সংরক্ষিত বনভূমির পরিমাণ ২ হাজার ৯০৭ একর। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ২০ একর বনভূমি জবরদখল হয়েছে। বিশাল এই বনাঞ্চল দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র পাঁচজন বনকর্মী। জনবল সংকটের মধ্যেই তাদের বন রক্ষা ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের কাজ করতে হচ্ছে।

3ca9cb72-8cd5-4220-872f-72f818fec946

স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগ সূত্র জানায়, ফাঁসিয়াখালী উত্তর বন বিভাগের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং বিট। দীর্ঘদিন ধরে এখানে বনভূমি দখল, কাঠ পাচার, বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন বন অপরাধের অভিযোগ ছিল। তবে বিট কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার খসরুল আমিন দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে শুরু করে। কমেছে জবরদখল, কাঠ পাচার ও বালু উত্তোলনসহ বনভূমির ওপর নানা ধরনের চাপ।

গত দুই বছরে খসরুল আমিনের নেতৃত্বে ফাঁসিয়াখালী বিটে ৫০টির বেশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। একাধিক অভিযানে অবৈধ করাতকল (স’মিল) সরানো হয়েছে। পাশাপাশি ১০টি বালুমহালে অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

bb4ecefd-b371-42fe-9232-f8d31b321e2d

বন বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ফাঁসিয়াখালী বিটে বন অপরাধের ঘটনায় ২৮টি মামলা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২টিতে।

ফাঁসিয়াখালী বিট কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার খসরুল আমিন বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর বনভূমি রক্ষা ও বন অপরাধীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গিয়ে তিনি চার-পাঁচবার হামলার শিকার হয়েছেন। মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এমনকি অপরাধীদের পক্ষ থেকে ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এরপরও বন রক্ষার দায়িত্ব পালনে তিনি পিছপা হননি।

487f6ccd-8a6c-4cc1-bc91-e4444fef64d1

ফাঁসিয়াখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে গর্জন, সেগুন, তেলসুর, ঢাকিজামসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা বৃক্ষের পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন সৃজিত বাগান। নানা প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে বনাঞ্চলটি প্রাণবন্ত থাকে। পাশাপাশি বুনো হাতি কখনো একা, আবার কখনো দলবেঁধে বনের ভেতর বিচরণ করে।

তবে অভয়ারণ্যের আশপাশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন মানববসতির কারণে বনজ সম্পদের ওপর স্থানীয় মানুষের নির্ভরতা রয়েছে। জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে অনেকে বন থেকে বিভিন্ন সম্পদ সংগ্রহ করেন। এতে বন ও জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।

b6a016e3-fa16-43fc-a135-247b98b855ab_(1)

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করা জরুরি। দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা এবং বননির্ভর মানুষের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা গেলে বনজ সম্পদের ওপর চাপ কমবে। একই সঙ্গে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলও নিরাপদ হবে।

বর্তমানে ফাঁসিয়াখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সহ-ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বন সংরক্ষণে সম্পৃক্ত করে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো গেলে বন রক্ষার পাশাপাশি ফাঁসিয়াখালীর জীববৈচিত্র্য দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

5f613846-9eb0-433b-a627-909c69f201b8

ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. কামরুল হাসান বলেন, ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়নে বন বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ফাঁসিয়াখালীতে বর্তমানে ৩০ হেক্টর বাগান সৃজনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বনভূমি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনা এবং প্রাকৃতিক প্রতিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখাই এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর