রাস্তাজুড়ে কাদা, ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। কোথাও পিচের অস্তিত্ব নেই। গর্তে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে বোঝার উপায় নেই, কোনটি রাস্তা আর কোনটি গর্ত। এর মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও পণ্যবাহী যানবাহন। সামান্য একটু এদিক-সেদিক হলেই ঘটছে দুর্ঘটনা।
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার মোহনগঞ্জ-তেতুলিয়া সড়কের বার্ত্তারগাতী এলাকার প্রায় ১০০ মিটার অংশের এমন বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির পুরোটা নয়, শহরসংলগ্ন এই ছোট অংশই এখন যাতায়াতের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের প্রায় ১০০ মিটার অংশজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। কোথাও কোথাও উঠে গেছে পিচ। বৃষ্টির পানি জমে গর্তগুলো কাদায় পরিণত হয়েছে। গর্ত এড়িয়ে যানবাহন চলাচলের মতো পর্যাপ্ত জায়গাও নেই। এতে যানবাহন উল্টে যাওয়ার ঝুঁকির পাশাপাশি পথচারীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার পূর্বাঞ্চলের গাগলাজুর ও তেতুলিয়া ইউনিয়ন এবং মোহনগঞ্জ শহরের পূর্বাঞ্চলের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি গ্রামের মানুষের শহরে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ এই সড়ক। প্রতিদিন ধান, মাছসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে এ সড়ক দিয়ে মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু বার্ত্তারগাতী এলাকায় সড়কের ভাঙা অংশে প্রায়ই অটোরিকশা, ধান ও মালামালবাহী যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে আহত হচ্ছেন যাত্রী ও চালকেরা।
অটোরিকশাচালক ইদ্রিছ মিয়া বলেন, ‘বৃষ্টি হলে গর্তগুলো পানিতে ভরে যায়। তখন কোনটা গর্ত আর কোনটা রাস্তা, বোঝা যায় না। প্রতিদিনই কয়েকটি গাড়ি গর্তে পড়ে উল্টে মানুষ আহত হচ্ছে। রোগী নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে গেলে ঝাঁকুনিতে তাঁর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা দরকার।’
মোটরসাইকেলচালক আশরাফুল আলম বলেন, ‘মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থাও নেই। অটোরিকশা বা অন্য গাড়ি নিয়ে গেলে বিপদ আরও বেশি। মানুষ কত কষ্ট করে চলাচল করছে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত নজর দেওয়া দরকার।’

তেতুলিয়া গ্রামের আব্দুল মালেক বলেন, ‘ধান-মাছ নিয়ে হাজারো মানুষ এই রাস্তা দিয়ে মোহনগঞ্জ শহরে যায়। দীর্ঘদিন ধরে মাত্র ১০০ মিটার রাস্তার জন্য মানুষকে অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। গর্ত ও উঁচু-নিচু জায়গায় গাড়ি উল্টে অনেক মানুষ আহত হয়েছেন। পুরো অংশজুড়ে কাদা। কোনো রোগীকে নিয়ে গেলে ঝাঁকুনিতে তাঁর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। দ্রুত রাস্তাটি মেরামত করা দরকার।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির এই অংশ দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা থাকলেও স্থায়ীভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার সময় দুর্ভোগ চরমে ওঠে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মোহনগঞ্জ-তেতুলিয়া সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৯ কিলোমিটার। কয়েক বছর আগে সড়কটি সংস্কার করা হয়। তবে গত এক বছর ধরে বার্ত্তারগাতী এলাকার প্রায় ১০০ মিটার অংশ ভেঙে বেহাল হয়ে পড়েছে।

মোহনগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী ইকরামুল হোসেন বলেন, ‘রাস্তার পাশে বাড়িঘর থাকায় ওই অংশে পানি জমে সড়কটি ভেঙে গেছে। তেতুলিয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার সড়ক আরসিসি ঢালাই করার জন্য প্রস্তাব প্রস্তুত করা হচ্ছে। সম্প্রতি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সড়কটি পরিদর্শন করেছেন। দ্রুত প্রস্তাবটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। আপাতত চলাচলের উপযোগী করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’
সড়কটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে, এর ছবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুনের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠালে তিনিও প্রথমে এটিকে কাঁচা রাস্তা ভেবে বসেন এবং সেটি কাঁচা রাস্তা কি না জানতে চান। পরে বিস্তারিত জানানো হলে তিনি উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে সড়কটি সংস্কারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধি/এসএস




