হবিগঞ্জের লাখাইয়ে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে রায়হান উদ্দীন নামের এক যুবকের বাড়িতে অনশনে বসেছেন সুফিয়া আক্তার (১৮) নামের এক তরুণী।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) উপজেলার মুড়িয়াউক ইউনিয়নের মুড়িয়াউক গ্রামে রায়হানের বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করেন তিনি। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সুফিয়া উপজেলার করাব ইউনিয়নের সিংহগ্রামের ইনছান আলীর মেয়ে। তার দাবি, প্রায় দুই বছর আগে মুঠোফোনে রায়হানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে নিয়মিত ফোনালাপের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার পর তাদের মধ্যে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে বলেও দাবি করেন সুফিয়া।
সুফিয়ার অভিযোগ, রায়হান তাকে বিয়ে করে সংসার করার আশ্বাস দিয়ে ঢাকার পুরান অংশের চানখারপুল এলাকায় একটি বাসায় নিয়ে যান। সেখানে প্রায় এক সপ্তাহ তারা অবস্থান করেন। এ সময় তাদের মধ্যে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়। পরে রায়হান তাকে ঢাকার একটি সড়কে রেখে চলে যান বলে অভিযোগ করেন সুফিয়া।
এরপর নানা দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে রায়হানের বাড়িতে চলে আসেন সুফিয়া। বিয়ে করে স্ত্রীর স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত বাড়ি ছাড়বেন না ঘোষণা দিয়ে তিনি সেখানে অনশনে বসেন।
সুফিয়া আক্তার বলেন, ‘রায়হান আমাকে বিয়ে করে সংসার করার কথা বলেছিল। এখন সে আমাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে চাইছে না। তাই বাধ্য হয়ে তার বাড়িতে এসে অনশনে বসেছি। বিয়ে করে স্ত্রীর স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাব না।’
তরুণীর অনশনের খবর ছড়িয়ে পড়লে রায়হানের বাড়িতে স্থানীয় লোকজন জড়ো হন। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্য নুরে আলম বলেন, ‘বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু রায়হানের পক্ষ রাজি না হওয়ায় মীমাংসা করা সম্ভব হয়নি।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রায়হানের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন সুফিয়া। তাকে ঘিরে সেখানে স্থানীয় লোকজনের ভিড় দেখা যায়। তবে এ সময় রায়হান ও তার পরিবারের কোনো সদস্যকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রতিনিধি/এসএস




