মাদারীপুরের নদ-নদীতে কারেন্ট জালের ব্যবহার বাড়ায় দেশি মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারে দেশি মাছের সরবরাহ কম থাকায় সাগরের মাছ ও ইলিশের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। সরবরাহ কম থাকায় এসব মাছের দামও বেশ চড়া।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে শহরের পুরান বাজারের পাইকারি মাছের আড়তে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই সেখানে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়। দূরদূরান্তের পাইকার ও ব্যবসায়ীরা মাছ কিনতে আসছেন। তবে পুকুর, জলাশয় ও বিলের দেশি মাছের সরবরাহ খুবই কম। আড়তে কুয়াকাটা থেকে আসা সাগরের মাছের সরবরাহ রয়েছে। পাওয়া যাচ্ছে ইলিশও।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বাজারে দেশি মাছের সরবরাহ কম থাকায় সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতি কেজি চিংড়ি পাইকারিতে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের কেজি ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে আকারভেদে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে। বাজারে থাকা দেশি মাছের দামও কেজিতে ১ হাজার টাকার বেশি।

দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। তানিয়া আক্তার নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘আমি সপ্তাহে এক দিন মাছ কিনতে বাজারে আসি। কিন্তু দাম কখনো কমে না। আমরা চাই মাছের বাজার ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে থাকুক। তাহলে পরিবার নিয়ে নিয়মিত মাছ খেতে পারব। না হলে শাকসবজি আর ডিমই একমাত্র ভরসা হবে।’
আরেক ক্রেতা আনোয়ার সরদার বলেন, ‘বাজারে দেশি মাছ নেই। অন্য মাছের দামও আগুন। পছন্দের মাছ কিনে খেতে পারছি না।’

মাদারীপুর পুরান বাজার মৎস্য আড়তদার সমিতির নেতা প্রাণ কৃষ্ণ মালো বলেন, ‘বাজারে দেশি মাছ নেই। অন্য মাছের সরবরাহও কম থাকায় দাম কিছুটা বেড়েছে। অনেক দূর থেকে মাছ আনতে হয়। এতে পরিবহন খরচ বেশি পড়ে, তাই মাছের দামও বেড়েছে।’

মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, মাছের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মৎস্য কর্মকর্তারাও বাজার মনিটরিং করছেন, যাতে কোনো ব্যবসায়ী অযৌক্তিকভাবে মাছের দাম বাড়াতে না পারেন।
প্রতিনিধি/এসএস




