ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সব ধরনের গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় গতকাল বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর থেকে। এতে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে ৫টি ফিলিং স্টেশন ও ১৭টি গ্যাস নির্ভর শিল্প কারখানা। সেইসঙ্গে আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাস না থাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ। বাসাবাড়িতে গ্যাস না থাকায় বিভিন্ন এলাকায় মাটির চুলা ও সিলিন্ডার গ্যাসের মাধ্যমে রান্না করতে হচ্ছে। আকস্মিক এই বিপর্যয়ের কারণে আবাসিক গ্রাহক পর্যায়ে এখন হিমশিম অবস্থা। তবে কিছু এলাকায় স্বল্প পরিসরে গ্যাস সরবরাহ থাকলেও নিভু নিভু অবস্থা।
গ্যাস সংকটে বাসা বাড়িতে চলছে মাটির চুলায় রান্না। আবার কোথাও নির্ভর করতে হচ্ছে সিলিন্ডার গ্যাসের উপর। গেল দুইদিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আবাসিক গ্রাহকদের দুর্ভোগ চরমে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, বাসা বাড়িতে গ্যাস না থাকার কারণে মাটির চুলায় রান্না করছে অনেকে। এতে তাদের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ।
কথা হয় শহরের কাজীপাড়ার বাসিন্দা রুমানা ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকাক ১০টার পর থেকেই চুলা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে আর গ্যাস আসছে না। বাধ্য হয়েই মাটির চুলায় রান্না করছি।
মৌলভীপাড়ার বাসিন্দা ফারজানা আক্তার বলেন, এমনিতেই গ্যাসের চাপ কম থাকে। তা ছাড়া গত দুই দিন ধরে গ্যাস নেই। তাই বাজার থেকে সিলিন্ডার গ্যাস কিনে এনেছি রান্নার করার জন্য।
বেশ কয়েকজন যানবাহন চালক বলেন, গত একমাস ধরে ফিলিং স্টেশন গুলোতে গ্যাসের চাপ কম। ঠিকমতো গ্যাসের চাপ পাচ্ছি না। গতকাল থেকে একেবারে গ্যাস বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আমরা অনেক দুর্ভোগ পোহাচ্ছি।
মূলত এলএনজি সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় দেশের বিভিন্ন জেলার মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাখারাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের উপ-মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়) প্রকৌশলী মো. শফিকুল হক জানান, জেলায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে প্রায় ২৬ হাজার গ্রাহক রয়েছে। গতকাল বুধবার থেকে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বাণিজ্যিক পর্যায়ে পুরোপুরি গ্যাস বন্ধ হয়ে যায়। তবে আবাসিকে কিছু অংশে গ্যাস থাকলেও বেশিরভাগ জায়গায় গ্যাস নেই। কখন এই সমস্যার সমাধান হবে তা এখনো বলা যাচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, বুধবার (১২ আগস্ট) বিজিডিসিএলের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি টার্মিনাল (FSRU) থেকে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে জাতীয় পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ অনাকাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে হ্রাস পেয়েছে। এর প্রভাবে বিজিডিসিএলের বিতরণ এলাকার কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।
প্রতিনিধি/ এজে




