বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

প্রবাসী প্রেমিকের বাড়িতে বিষের বোতল হাতে ৫ দিন ধরে অনশনে তরুণী

জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া 
প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৫ এএম

শেয়ার করুন:

প্রবাসী প্রেমিকের বাড়িতে বিষের বোতল হাতে ৫ দিন ধরে অনশনে তরুণী
ছবির বামে প্রবাসী প্রেমিক আমিন খান। ডানে প্রেমিকা লায়লা আক্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বিয়ের দাবিতে প্রবাসী প্রেমিকের বাড়িতে বিষের বোতল হাতে নিয়ে পাঁচ দিন ধরে অবস্থান করছেন লায়লা আক্তার (১৮) নামের এক তরুণী। 

শনিবার (৮ আগস্ট) থেকে বুধবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাত পর্যন্ত উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের প্রেমিক আমিন খানের বাড়িতে অবস্থান করছেন তিনি। 

প্রেমিক আমিন খান হরিণবেড় গ্রামের কামাল খানের ছেলে। তিনি বর্তমানে দুবাইপ্রবাসী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রেমিকা লায়লার দাবি, দুবাইপ্রবাসী আমিন খানের সঙ্গে তার প্রায় চার বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক। আমিন দেশে থাকা অবস্থায় দুই বছর এবং পরবর্তী সময়ে দুবাই যাওয়ার পর আরও দুই বছর ধরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর এখন আমিন বিয়েতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন লায়লা।

লায়লার বাবা ও শংকরাদহ গ্রামের বাসিন্দা সোহাগ খান বলেন, ‘বিয়ে করবে বলে সম্পর্ক করার পর এখন অস্বীকার করায় আমার মেয়ে পাঁচ দিন ধরে অনশন করছে। গ্রামের সর্দার-মাতব্বররা বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে সমাধানের জন্য ছেলে পক্ষকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তারা প্রথমে সম্মতি দিলেও এখন টালবাহানা শুরু করেছে। এ অবস্থায় মেয়ের জীবন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।’

এ বিষয়ে আমিন খানের বড় ভাই আজমল খান বলেন, ‘আমার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে রিলেশন ছিল। কিন্তু সে বিয়েতে সম্মতি দিচ্ছে না। আমাদের কী করার আছে?’

লায়লার হাতে বিষের বোতল থাকার বিষয়টি স্বীকার করে আজমল খান বলেন, ‘বিষের বোতল ছিল। তবে গ্রামের সাহেব-সর্দাররা সেটি সরিয়ে নিয়েছেন।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রামের সর্দার-মাতব্বররা কয়েক দফা উদ্যোগ নিয়েছেন। তরুণীকে বিয়ে করার বিষয়ে প্রেমিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বিষয়টির কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে ওই তরুণী প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।’

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় পুলিশের কিছু করার নেই। স্থানীয় চেয়ারম্যান বিষয়টি দেখছেন। অনশন বা প্রেমসংক্রান্ত বিষয়ে কোনো অভিযোগ পেলে সেটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রতিনিধি/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর