ফরিদপুরে কাজের বিল ছাড়াতে ১৫% ঘুষ না দেওয়ায় এক ঠিকাদারকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
বুধবার দুপুর ১টার দিকে জেলার নগরকান্দা পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন আহত ঠিকাদার হাসিবুল হাসান আব্দুল্লাহ।
তার দাবি, পাওনা বিল তুলতে গেলে পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির ও তার সহযোগী মোসলেম উদ্দিন তার ওপর হামলা চালায়। এতে ঠিকাদার হাসিবুল হাসানের একটি হাত ভেঙে যায়।
তবে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
আহত ঠিকাদারকে প্রথমে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হাসিবুল হাসান আব্দুল্লাহ বলেন, তার প্রতিষ্ঠান সৈয়দা জাহানারা এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে ২০২৩ সালে আইইউআইডিপি প্রকল্পের আওতায় নগরকান্দা পৌর এলাকায় তিনটি সড়কের আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করা হয়। ওই কাজের বিল আট মাস আগে অনুমোদন হলেও তা আটকে রাখা হয়েছে।
তার অভিযোগ, বিল ছাড়ের জন্য পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির তার কাছে মোট বিলের ১৫ শতাংশ ঘুষ দাবি করেন। এর মধ্যে গত ১০ আগস্ট পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পরে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে বিল আটকে রাখা হয়।
হাসিবুল বলেন, বুধবার বিলের বিষয়ে কথা বলতে প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে গেলে হুমায়ুন কবির ও মোসলেম উদ্দিন তার ওপর হামলা করেন। এ সময় জিআই পাইপ দিয়ে মারধর করা হলে একপর্যায়ে তার হাত ভেঙে যায়।
এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন হাসিবুল।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ঠিকাদারের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় বিল দেওয়া হয়নি। পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা ছিল, কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিল না দেওয়ার।
হুমায়ুন কবিরের দাবি, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ঠিকাদার তাদের কক্ষে এসে প্রথমে হামলা করেন। ঠিকাদারকে মারধর এবং জিআই পাইপ দিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
নগরকান্দা পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন বলেন, ঠিকাদারের বিলের বিষয়টি জানি। কাজের অসঙ্গতি পাওয়ায় কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিল দিতে নিষেধ করা হয়েছে।
প্রশাসনিক কর্মকর্তার আক্রমণে ঠিকাদার হাত ভাঙার বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে জানা নেই, তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এ ধরনের মারধরের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এলএ




