গত প্রায় দেড় যুগে স্বাস্থ্যখাতে দলীয়করণের যে কুফল, এখনও তার ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে জনবলের স্বল্পতা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কত দ্রুত এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সঠিক জনবল সঠিক জায়গায় দেওয়া যায়, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এটি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ফেনীর সিভিল সার্জন ও ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকার বিষয়টি শুধু ফেনীর চিত্র নয়, সারা বাংলাদেশের চিত্র। অনেক জেলাতেই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে জনবল সংকট রয়েছে। ফেনীর এসব পদ পূরণের বিষয়টি নোট নিয়েছি, ঢাকায় ফিরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেব।
তিনি বলেন, এবারের বাজেটে এ খাতে ৩৭ শতাংশ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে জিডিপির দশমিক ৬ থেকে দশমিক ৭ শতাংশ বরাদ্দ ছিল, এবার তা বেড়ে জিডিপির ১ দশমিক ১০ শতাংশ হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজানোর জন্য সরকার কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতে জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকট কাটিয়ে আমূল পরিবর্তন আনতে সরকার কাজ করছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও ধারণক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করার কাজ চলছে। অচিরেই স্বাস্থ্যখাতের গুণগত পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।
হায়দার বলেন, আমাদের দেশে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান সেকশন হচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত দিয়েছি, দেশের সব বেসরকারি হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারি রুম রাখতে হবে। এ সংক্রান্ত প্রচার-প্রচারণাও চালু রাখতে হবে, যাতে নরমাল ডেলিভারিকে আরও উৎসাহিত করা যায়। এছাড়া সিজারিয়ান সেকশনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি নির্ধারণ নিঃসন্দেহে অপরাধ। এটি যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প স্বাস্থ্য কার্ড প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য কার্ড চালু করা গেলে একজন রোগী কী চিকিৎসা পেলেন, কী ওষুধ পেলেন এবং কী কী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলো এসব তথ্য রেকর্ড থাকবে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে মনিটার করা সম্ভব হবে। সবমিলিয়ে, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা হাসপাতাল পর্যায়ে সরকারের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন অসংগতির দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।
এদিন ফেনী জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ইউনিট, স্ক্যানু, আইসিইউ, ডেঙ্গু বিভাগ, হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ), শিশু বিকাশ কেন্দ্র ও জরুরি বিভাগ ঘুরে দেখেন। পরে হাসপাতালের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক, স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ডা. জালাল উদ্দীন, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. সোহরাব হোসেন, ফেনী জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোবারক হোসেন, সহকারী আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রৌকন উদ দৌলা, স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি/ এজে




