চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কালপুর বেইলি ব্রিজের পাশে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ প্রায় চার মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। পাশাপাশি প্রায় ৩০ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে ভারী যানবাহনকে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন এ অঞ্চলের অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ।
উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের নভেম্বরে কালপুর এলাকায় প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা।

তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় চার মাস ধরে নির্মাণকাজে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। সেতুর মূল অবকাঠামোর কাজও বন্ধ রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পুরোনো বেইলি ব্রিজ দিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। সেতুর নির্মাণকাজ চলমান থাকায় কালপুর রুট দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে প্রায় ৩০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হচ্ছে। এতে সময়ের পাশাপাশি পরিবহন খরচও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘সেতুটি আমাদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল। কিন্তু কাজ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। মালামাল নিয়ে অতিরিক্ত ৩০ কিলোমিটার ঘুরতে হচ্ছে। এতে সময় ও পরিবহন খরচ—দুটিই বেড়ে যাচ্ছে।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজ বন্ধ রেখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের স্থান ছেড়ে চলে গেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক শাহিন আলম। তিনি বলেন, ঠিকাদার কাজ ছেড়ে চলে যাওয়ার তথ্য সঠিক নয়। ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতা ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে সাময়িকভাবে কাজের গতি থেমে আছে।
শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়ে কিছু আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এখনো বাকি রয়েছে। জটিলতা দ্রুত নিরসনের চেষ্টা চলছে। সমস্যা সমাধান হলেই পূর্ণোদ্যমে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হবে।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘কালপুর সেতুর গুরুত্ব আমরা অনুধাবন করছি। স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। দ্রুত ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা সমাধান করে নির্মাণকাজ শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

সীমান্তবর্তী ও কৃষিপ্রধান শিবগঞ্জ উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হলে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় যোগাযোগ সহজ হবে। একই সঙ্গে কমবে সময় ও যাতায়াতের খরচ।
দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রতিনিধি/এসএস




