বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

‘সেক্রেটারি হতে ৫০ লাখ খরচ করছি’, বিএনপি নেতার কলরেকর্ড ভাইরাল

জেলা প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম

শেয়ার করুন:

‘সেক্রেটারি হতে ৫০ লাখ খরচ করছি’, বিএনপি নেতার কলরেকর্ড ভাইরাল

‘নির্বাচিত সেক্রেটারি, ৫০ লাখ টাকা খরচ করে হালাইছি’ (খরচ করেছি)—লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন পলাশের এমন বক্তব্যের একটি কলরেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। একটি বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হতে না পারাকে কেন্দ্র করে নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তাওহীদ হোসেন মারুফ ভূঁইয়ার সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে।

কলরেকর্ডে পলাশকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘আমি পানিওয়ালা যামু না, তোরা এইকগাও (একজনও) পৌরসভায় আসবি না।’ এ সময় তিনি কেন অনুষ্ঠানের ব্যানারে তার নাম প্রধান অতিথি হিসেবে রাখা হয়নি, তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে ৩ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের কলরেকর্ডটি প্রতিবেদকের হাতে আসে।

কলরেকর্ডে গিয়াস উদ্দিন পলাশকে বলতে শোনা যায়, ‘মনোয়ার প্রধান অতিথি, আমনে (আপনি) বিশেষ অতিথির ব্যানার কইরছেন। আঁই (আমি) পানিওয়ালা স্কুলে যাই, আঁই পৌর বিএনপির সেক্রেটারি প্রধান অতিথি হইতে হারিনো (পারিনি)। আমনে কন (বলেন), পলাশ কে? আমনে কি সাংগঠনিক রাজনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দিবেননি, মারুফ ভূঁইয়া?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার নাম কেন আসে নাই ব্যানারে প্রধান অতিথি হিসেবে? আমনে কইছেন, পলাশ কে? আমি পানিওয়ালা যামু না, এটা আমি বলছি। তোরা এইকগাও আসবি না পৌরসভায়। আঁই প্রধান অতিথি কেন হইতে পারিনো। এ মারুফ ভূঁইয়া সাংগঠনিক রাজনীতি যদি না বুঝেন, তাহলে করিয়েন না।’

একপর্যায়ে পলাশকে বলতে শোনা যায়, ‘আঁই পৌর বিএনপির সেক্রেটারি, আমার নাম ব্যানারে আসে নাই, আমনে কন পলাশ কে? নির্বাচিত সেক্রেটারি, ৫০ লাখ টিয়া (টাকা) খরচ করে হালাইছি। আমনে বলেন, পলাশ কে? আপনি পানিওয়ালাতে আসেন, সেখানে কথা হবে।’

এ সময় অপরপ্রান্তে থাকা নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তাওহীদ হোসেন মারুফ ভূঁইয়া পলাশের বক্তব্যের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেন। কলরেকর্ডে তাকে বারবার বলতে শোনা যায়, ‘আমি কিছু বলিনি।’ একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। কলরেকর্ডের কিছু অংশে অপ্রকাশযোগ্য কথাও রয়েছে।

হুমকির বিষয়ে তাওহীদ হোসেন মারুফ ভূঁইয়া বলেন, ‘ঘটনাটি পুরোনো। পরে আমি বিষয়টি জানালে সিনিয়র নেতারা বসে সমাধান করে দিয়েছেন। পলাশ আমাকে সরি বলেছেন।’

 

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত রামগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন পলাশকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে এসএমএস পাঠিয়েও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পলাশের এক ঘনিষ্ঠ নেতা বলেন, ‘ঘটনার সময় পলাশের মাথা গরম ছিল। পরে নিজেদের মধ্যে বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে।’

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রামগঞ্জ পৌর বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভোটের মাধ্যমে শেখ কামরুল ইসলাম সভাপতি এবং গিয়াস উদ্দিন পলাশ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর