কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রাতভর থেমে থেমে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) রাত থেকে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোর পর্যন্ত টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা সীমান্তের বিপরীতে নাপপুরা ও কড়ের দ্বীপসংলগ্ন এলাকা থেকে একাধিকবার গুলির বিকট শব্দ শোনা যায়। এতে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের জেরে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
টেকনাফ সীমান্তের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলম বলেন, রাত ১১টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত ওপার থেকে থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা গেছে। তিনি জানান, রাখাইনে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ হয়। এতে সীমান্ত এলাকার মানুষ সবসময় উদ্বেগের মধ্যে থাকেন।
হ্নীলা এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেনও রাতভর গোলাগুলির শব্দ শোনার কথা জানান। তিনি বলেন, হঠাৎ এ ধরনের গোলাগুলির ঘটনায় সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।

উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এটি ডাকাত দলের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ অথবা আরাকান আর্মির সঙ্গে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষ হতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, গোলাগুলির সময় কড়ের দ্বীপ এলাকা থেকে কয়েকজন ব্যক্তি নৌকাযোগে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেন। বিজিবির সদস্যরা সতর্কতামূলক ফাঁকা গুলি ছুড়লে তারা ফিরে যায়।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ না ঘটে, সে জন্য টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত চলছে। এর প্রভাব মাঝে মধ্যেই বাংলাদেশের টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় অনুভূত হয়। সর্বশেষ ঘটনার পর সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিজিবি।
প্রতিনিধি/এসএস




