গাইবান্ধার বনগ্রাম ইউনিয়নে ঘাঘট নদীর অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। একই সঙ্গে ভাঙন-আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। ইতোমধ্যে একটি বাঁধ ও কবরস্থানও নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে ইউনিয়নের শালাইপুর এলাকায় প্রায় ৫০০ মিটারজুড়ে ঘাঘট নদীর ভাঙন দেখা গেছে। এতে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন অর্ধশত পরিবার।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি ওঠানামা ও প্রবল স্রোতের কারণে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। অনেক পরিবার বসতভিটা হারিয়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি কিংবা অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছে। কৃষকরাও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। নদীগর্ভে চলে গেছে আবাদি জমি। ফলে চলতি মৌসুমে ফসল উৎপাদন নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, ইতোমধ্যে আমজাদ, ছপিউল, রবিউল ও রফিকুলসহ কয়েকজনের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তারা গুচ্ছগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়া ছাদেকুল, ছামছুন্নাহার, শাহানুর ও কুলছুমসহ আরও অন্তত ১০টি পরিবার ভাঙনের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
নদীতীরের বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। জরুরি ভিত্তিতে নদীতীরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শালাইপুর এলাকায় খোঁজ নিয়ে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল কাইয়ুম হুদা বলেন, ‘শালাইপুরের বাসিন্দারা নদীভাঙনে অত্যন্ত ঝুঁকিতে বসবাস করছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও প্রকল্প গ্রহণ করাতে পারিনি।’
প্রতিনিধি/এসএস




