মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার মাগুরুলি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত তারা মিয়ার (২০) লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার চাতলাপুর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় উভয় দেশের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিতে এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
এদিকে, চোরাকারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে তারা মিয়ার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিজিবির পক্ষ থেকে কুলাউড়া থানায় মামলা হয়েছে।
তারা মিয়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তি এলাকার বাসিন্দা আবদুল মালেকের ছেলে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৪৬ ব্যাটালিয়ন ও কুলাউড়া থানা সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৫টার দিকে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়। এরপর লাশ হস্তান্তর করে বিএসএফ। এ সময় ভারতের প্রতিনিধিদলে ত্রিপুরা রাজ্যের ইরানি থানার পরিদর্শক শ্রীকান্ত চক্রবর্তী ও বিএসএফের ১৯৯ ব্যাটালিয়নের মাগুরুলি কোম্পানি কমান্ডার এ সি রোহিত ছিলেন। আর বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম ও বিজিবির আলীনগর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার কাজী নাসিম, কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিলভেস্টার পাঠাং ও নিহত তারা মিয়ার বড় ভাই রাজু মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে দুপুরের দিকে বিজিবির পক্ষ থেকে তারা মিয়ার চারজন সহযোগীর নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করা হয়। আসামিদের বাড়ি কর্মধা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়।
কুলাউড়া থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চলছে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়ার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের মাগুরুলি সীমান্ত দিয়ে গত শনিবার গভীর রাতে একদল চোরাকারবারি ভারতের ৫০০ গজ ভেতরে ঢুকে পড়ে। তারা মিয়াও ওই দলে ছিলেন। বিএসএফের গুলিতে তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান। এরপর ভারতীয় পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে কৈলাসহর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
৪৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশি তরুণ তারা নিহত হওয়ার ঘটনায় পতাকা বৈঠকে তাদের পক্ষ থেকে বিএসএফের কর্মকর্তাদের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তারা মিয়া চোরাকারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার স্বজনেরাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি সীমান্ত এলাকায় কিছু উঠতি বয়সী তরুণ-যুবকরা অপরাধ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়েছে। এসব কার্যক্রম বন্ধে বিজিবির পক্ষ থেকে স্থানীয় লোকদের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আগামীতেও এ কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহলও বাড়ানো হবে।
প্রতিনিধি/টিবি




