গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতি সেজে নবজাতক চুরির চেষ্টার অভিযোগে স্বামী-স্ত্রীকে আটক করেছে হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে নবজাতককে উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসূতি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।
আটকরা ব্যক্তিরা হলেন, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফাঁসিতলা গ্রামের মৃত ভোলা মিয়ার ছেলে সিরাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী শেফালী বেগম।
জানা যায়, সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের সমসপাড়া গ্রামের জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী রুপালী বেগম সন্তান প্রসবের জন্য গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। পরে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। প্রসবের পর নবজাতককে কোলে নিয়ে প্রসূতি বিভাগের ভেতরে ঘোরাফেরা করছিলেন শিশুটির দাদি জয়গুন বেওয়া।
এ সময় পাশের বেডে থাকা শেফালী বেগম শিশুটিকে কোলে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সরল বিশ্বাসে শিশুটিকে তার কোলে তুলে দেন দাদি। এরপর বেশ কিছু সময় শিশুটিকে কোলে নিয়ে আদর-সোহাগ করেন শেফালী।
একপর্যায়ে শিশুটিকে শেফালীর কোলে রেখেই জয়গুন বেওয়া চিকিৎসকের কাছে যান। এই সুযোগে শেফালী শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তার স্বামী সিরাজুল ইসলামও সঙ্গে ছিলেন।
বিষয়টি বুঝতে পেরে শিশুটির দাদি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। পরে হাসপাতালের নিচে নেমে তিনি দেখতে পান, শিশুটিকে নিয়ে শেফালীসহ কয়েকজন দ্রুত হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন। তার চিৎকার শুনে কর্তব্যরত নিরাপত্তাকর্মীরা এগিয়ে এসে নবজাতকসহ শেফালী ও তার স্বামী সিরাজুল ইসলামকে আটক করেন। তবে তাদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন পালিয়ে যায়।
হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী লাল মিয়া জানান, চিৎকার শুনে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নবজাতকসহ ওই নারী ও তার স্বামীকে আটক করেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, শেফালী বেগম প্রসূতি সেজে হাসপাতালে প্রবেশ করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তার শরীরে বাঁধা অবস্থায় অতিরিক্ত কাপড়ও পাওয়া গেছে। ওই কাপড় ব্যবহার করে পেট উঁচু করে প্রসূতি সাজার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার জানান, নবজাতকসহ আটক দুজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/আরআর




