ফরিদপুরে একটি মাদরাসার ছাত্রীদের উত্তক্ত্যের প্রতিবাদ করায় দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত ও এক যুবক নিহত হয়েছেন।
সোমবার দুপুরে জেলার ভাঙ্গা উপজেলার পৌরসভার কৈডুবী সদরদী গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ভাঙ্গা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় হযরত ফাতেমাতুজ যহুরা (রাযিঃ) মহিলা মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বেশ কিছুদিন ধরে একই এলাকার জিহাদ মাতুব্বর উত্তক্ত্য করছিল। এর জেরে সকালে মাদরাসার মোহতামিম মুফতি মনির ব্যাপারী প্রতিবাদ করেন।
এ ঘটনায় বশার মাতুব্বর, আলমগীর মাতুব্বর ও জাহাঙ্গীর মাতুব্বর পক্ষের লোকজনের সঙ্গে মাদরাসার পক্ষ নেওয়া মনির ব্যাপারী, সবুজ ব্যাপারী ও পলাশ গংয়ের সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়ায়।
সংঘর্ষে মাদরাসা পক্ষের সানি ব্যাপারী (১৯) নামে এক যুবক নিহত ও উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
এ সময় স্থানীয় ও প্রতিবেশীদের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরে সেখান থেকে সানি ব্যাপারীকে (১৯) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে পথে তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বিরক্ত করার প্রতিবাদ নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে একজন নিহত ও ১০ জন আহত হন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংঘর্ষের এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাত ৯.২০ পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় মামলা বা অভিযোগ করেনি। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী সময়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এলএ




