সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

‘আমার দুই বাবাকে বুকে অ্যানা দেও, দেখে আমি কলিজা শান্ত করমু’

জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁ
প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১১:১০ এএম

শেয়ার করুন:

‘আমার দুই বাবাকে বুকে অ্যানা দেও, দেখে আমি কলিজা শান্ত করমু’
আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামে মোহন এবং সুমনদের বাড়িতে এমন শোকের মাতম বিরাজ করছে।

‘আমার দুই বাবাকে আমার বুকে অ্যানা দেও বাবা। আমার বাবাদেরকে দেখে আমি কলিজা শান্ত করমু। বড় কষ্টের ছাওয়াল, আমার দুই ধনক আমার বুকে অ্যানা দে, বাবা রে...’ এভাবেই আহাজারি করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন নিহত সুমন ও মোহনের মা ময়না খাতুন।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামে মোহন এবং সুমনদের বাড়িতে এমন শোকের মাতম বিরাজ করছে।

এর আগে রোববার সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানা এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে দুই ভাই নিহত হন। এছাড়া এই গ্রামের আরও দুইজন এই ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

ময়না খাতুন বলেন, কালকে মেজো ব্যাটার সঙ্গে সকালে কথা কইছি। সে কইছে, ‘ভালোই আছি মা, তুমি ভাত খাও, সুস্থ থাকো।’ যখন আগুন লাগছে, তখন ওই ফায়ার সার্ভিস আসছিল না। তখন ছাওয়াল ভয়েস ম্যাসেজ দিছে। দিয়ে বলে মারো, দুইডা কথা কমু মা, আমি আর কথা কমু না নে মা। আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি।

b3ce37bc-b248-4ff9-8586-47975c1d32bf

তিনি আরও বলেন, ‘বড় ছাওয়াল গেছে সাত বছর হচ্ছে, আর মেজো ছাওয়াল গেছে দুই বছর। কোনোদিনও ছুটিতে আসেনি। ছাওয়ালটা বলছিল— ‘মা, কষ্ট করে খেয়ে দেনা শোধ করছি কেবল। বাড়ির কাজটা শুরু করছি, বাড়ি এসে বিল্ডিংয়ের কাজটা শেষ করবো।’ আমার বাবার আর বাড়ি আসা হলো না। কি সর্বনাশ হলো বাবা আমার।’ মোহন বলতেছিল, ‘এসে বিয়া করমু মা। মেয়ে-টেয়ে দেখো না, আমি ১০টা দেখে একটা বিয়ে করমু।’ তার আর বিয়ে করা হলো না।

 

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আগুনে পুড়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। মরদেহ ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

নিহতরা হলেন— আত্রাই উপজেলার সাদনগর গ্রামের সাগর (৩৮), খরস্রোতা গ্রামের মজিদুল (৩৪) ও আব্দুল জলিল (৪৮), উজানপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ (৩২), ডুবাই গ্রামের সুমন (৩১) ও হাসিবুল হাসান শুভ (৩৭), কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের মহন প্রামাণিক (২২) ও তার ছোট ভাই সুমন প্রামাণিক (১৬), একই গ্রামের রুবেল প্রামাণিক (৩০), কলিমুল্লাহ প্রামাণিক (৩৫), বোয়ালা গ্রামের হৃদয় (৩২), মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ (৩০) এবং নওগাঁ সদর উপজেলার নওগাঁ পৌরসভার পার-নওগাঁ এলাকার শাহিন (৩৮)।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর