সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ‘ইউনিক পরিবহন’ ও ‘বেঙ্গল স্লিপার’ বাসের সংঘর্ষের ঘটনায় দুই বাসচালকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
একই সঙ্গে দুর্ঘটনাকবলিত দুই বাসের রেজিস্ট্রেশন সাময়িকভাবে বাতিল করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
শনিবার রাতে দুর্ঘটনায় নিহত এক যাত্রীর বড় ভাই মো. মনিরুল ইসলাম ওসমানীনগর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় ইউনিক পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-২৫৬৩) চালক এবং বেঙ্গল স্লিপার কোচের (ঢাকা মেট্রো-ব ১২-৫৯৮৭) চালককে আসামি করা হয়।
রোববার বিকেলে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর শনিবার দুই বাসের রেজিস্ট্রেশন সাময়িকভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় বিআরটিএ। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে দুই বাসের মালিক ও চালককে পাঁচ দিনের মধ্যে বিআরটিএ কার্যালয়ে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুর রশীদ।
অন্যদিকে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একই দিন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে সিলেট জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটিতে হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সদস্য করা হয়েছে।
কমিটিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কাশিকাপন এলাকায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকা-সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের সংঘর্ষ হয়। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হলে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ জনে। নিহত সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী ছিলেন। এ ঘটনায় দুই বাসের অন্তত ২৪ জন যাত্রী আহত হন। তাদের মধ্যে ১৪ জন বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রতিনিধি/এলএ




