রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

যৌতুকের প্রাচীরে আটকা গৃহবধূ, ১৯ দিন পর মায়ের কোলে শিশু লামিয়া

জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম

শেয়ার করুন:

যৌতুকের প্রাচীরে আটকা গৃহবধূ, ১৯ দিন পর মায়ের কোলে শিশু লামিয়া
মায়ের কোলে শিশু লামিয়ার হাসি। ছবি: ঢাকা মেইল

আদালতপাড়ায় নিত্যনতুন ঘটনার জন্ম দেয়। কারো বিষাদের জন্ম দেয়, আবার কেউ আনন্দ অশ্রু ঝরায়। তেমনি এক ঘটনা ঘটেছে নওগাঁ আদালতপাড়ায়। 

১৯ দিন পর নওগাঁ আদালতের মাধ্যমে দুই বছরের শিশু লামিয়া ফিরে গেল তার মায়ের কাছে। মায়ের কোল ফিরে পেয়ে শিশুর হাসি যেন বলে দেয়- আমি আমার স্বর্গ খুঁজে পেয়েছি। পৃথিবীর সব সুখ যেন তার এই এক চিলতে হাসিতে লুকিয়ে আছে। মায়ের কোলে গিয়ে তার সব ভয় ও শঙ্কা দূর হয়ে গেছে।

রোববার দুপুরে নওগাঁর (মান্দা) আমলি আদালত ২-এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সালমান আহমেদ শুভর আদালতে শিশুকে ফিরে পায় তার মা চাঁদনী খাতুন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর নওগাঁর মান্দা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রাসেল মাহমুদের সাথে পারিবারিকভাবে একই উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের ভারশোঁ গ্রামের চাঁন মিয়ার মেয়ে চাঁদনী খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ঘর সাজিয়ে দিতে জামাইকে প্রায় দেড় লাখ টাকার সাংসারিক জিনিসপত্র উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। দাম্পত্যজীবনে তাদের সংসারে দুই বছরের এক মেয়ে লামিয়া রয়েছে।

বিয়ের পর থেকে ২ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে চাঁদনী খাতুনকে বিভিন্ন সময় স্বামী রাসেল মাহমুদ ও শ্বশুর-শাশুড়ি অত্যাচার ও মারধর করে আসছিল। ভুক্তভোগী গৃহবধূ ঘর-সংসার করার জন্য স্বামীর সব অত্যাচার সহ্য করছিল। 

২০ জুলাই আবারো যৌতুকের টাকার জন্য গৃহবধূকে মারধর করা হয় এবং রড আগুনে গরম করে তার ডান হাতে জখম করা হয়। তার শিশু সন্তানকে কেড়ে নিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। নিরুপায় হয়ে গৃহবধূর বাবার বাড়ি চলে আসে।

ঘটনার এক সপ্তাহ পর মেয়ের বাবা চাঁন মিয়া ঘর-সংসার করার জন্য জামাইয়ের পরিবারকে আসার জন্য অনুরোধ করেন। এরপর রাসেল মাহমুদ তার বাবা-মাসহ কয়েকজন আসেন। কিন্তু ২ লাখ টাকা ছাড়া সংসার করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন রাসেল মাহমুদ। 

এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে গৃহবধূকে মারধর ও গালিগালাজ করে শ্বশুরবাড়ি থেকে চলে যান রাসেল মাহমুদ। এরপর তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী ‍মান্দা থানায় মামলা করার জন্য গেলে থানা থেকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর ৩০ জুলাই স্বামীর বিরুদ্ধে মান্দা আমলি আদালতে মামলা করেন চাঁদনী।

তিনি বলেন, ২০ জুলাই বাচ্চাকে স্বামীর পরিবার কেড়ে নিয়ে আমাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর কয়েকবার বাচ্চাকে নেওয়ার জন্য আমার বাবা-মা স্বামীর বাড়িতে গেলে তারা দেখা করতে দেয়নি। বাধ্য হয়ে আদালতে এসেছি। 

রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালতে আসি। আদালতের কাঠগড়ায় উঠার আগ পর্যন্ত বাচ্চার সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। দীর্ঘ ১৯ দিন পর আদালতের মাধ্যমে দুপুর ১টার দিকে বাচ্চাকে ফিরে পেলাম। তবে আমি স্বামীর সংসার করতে চাই। কিন্তু যৌতুকের কারণে হয়তো তা সম্ভব হবে না। বাবা-মা গরিব মানুষ। এতো টাকা দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব না।

মান্দা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. জাকিরুল ইসলাম (জাকির) বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। ঘটনার সত্যতা পেলে আসামিকে আটক করা হবে।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর