লক্ষ্মীপুরে এক গৃহবধূর মুখ চেপে ধরার অভিযোগ উঠেছে তার দেবরের বিরুদ্ধে। এ সময় আত্মরক্ষার জন্য ওই নারী দেবরের একটি আঙুলে কামড় দিয়ে রক্তাক্ত করেন। এরপর আঘাতপ্রাপ্ত আঙুল নিয়ে ওই যুবক বাড়ি থেকে চলে যান বলে অভিযোগ করেছেন গৃহবধূ।
শনিবার (৮ আগস্ট) ভোরে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের লাহারকান্দি এলাকার আলার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গৃহবধূ নাহিদা আক্তার লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের পর রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
নাহিদা আক্তার ওই বাড়ির প্রবাসী সুমন হোসেনের স্ত্রী। অভিযুক্ত রমজান আলী একই বাড়ির শাহাজাহানের ছেলে। সম্পর্কে সুমন ও রমজান চাচাতো ভাই।
নাহিদার অভিযোগ, শনিবার ভোরে ঘুম থেকে উঠে ওজু করে ঘরে ফেরার সময় আগে থেকে সেখানে থাকা রমজান পেছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে মুখ চেপে ধরেন। এ সময় তিনি চিৎকার করলে শাশুড়ি ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে রমজান সেখান থেকে চলে যান। আত্মরক্ষার জন্য তিনি রমজানের একটি আঙুলে কামড় দেন বলে জানান নাহিদা।

নাহিদা বলেন, ‘অনেকবার সে আমাকে উত্ত্যক্ত করত। কিন্তু কেউ বিশ্বাস করত না। তাই এবার তার হাতে কামড় দিয়েছি। ঘটনার পর থেকে সে পালিয়ে আছে। বিচার চেয়ে থানায় অভিযোগ করেছি।’
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, রমজান মাদকাসক্ত বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে। তার আচরণের কারণে তার মা-বাবাও বাড়িতে থাকেন না বলে দাবি স্থানীয়দের। দুই দিন আগে স্ত্রীকে মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া প্রায়ই প্রবাসী সুমনের বাড়িতে ঢিল ছোড়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে রমজান আলী বলেন, ‘একসময় গাঁজা সেবন করতাম, এখন আর করি না। আমার ভাবি আমাকে তার ঘরে ডেকে নিয়ে আমার আঙুলে কামড় দিয়েছে।’
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল ইসলাম বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অভিযুক্তকে পাওয়া যায়নি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রতিনিধি/এসএস




