শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

সালাউদ্দিন হত্যাকাণ্ডে কড়া বার্তা জামায়াত আমিরের

জেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

শেয়ার করুন:

ছুরিকাঘাতে আহত কর্মীর মৃত্যু, ফেসবুকে যা লিখলেন জামায়াত আমির
জামায়াত আমির শফিকুর রহমান ও নিহত কর্মী সালাউদ্দিন। ছবি: ঢাকা মেইল

গাইবান্ধার সাঘাটায় শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হত্যার সময় গুরুতর আহত জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন ৪৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান। তিনি দুষ্কৃতিকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এর ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন ৪৮ দিন পরে শনিবার সকালে ঢাকার কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে মারা যান। স্থানীয় যুবদল নেতা মোখলেছুর রহমান মুকুল এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে স্বজনদের অভিযোগ।   

নিহতের বাবা ও উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য সামছুল হোদা দুদু মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তার মৃত্যুতে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
‘গাইবান্ধার সাঘাটায় অতি-দরিদ্র পরিবারের সন্তান সালাউদ্দিন আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিল (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

একটি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি দখলদারির প্রতিবাদ করতে গিয়ে তার জীবন প্রদীপটাই নিভে গেল। সরকারি দলের যে সন্ত্রাসীদের হাতে তার মূল্যবান জীবনটা চলে গেল তারা কি তার দরিদ্র পিতা-মাতার বুকে তাকে ফিরিয়ে দিতে পারবে? অতি নিন্দনীয় এ ঘটনায় সকল দুষ্কৃতিকারীকে এখনো পাকড়াও করা হয়নি। তাদের পাকড়াও করে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি দিতেই হবে।’

‘আল্লাহ তায়ালা প্রিয় সালাউদ্দিনকে ক্ষমা করুন, তার ওপর রহম করুন, শহীদ হিসেবে কবুল করুন। তার পিতা-মাতা, আপনজন এবং সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।’

তিনি আরও লিখছেন, ‘দুর্নীতিবাজ, দখলদার, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ন্যায় এবং ইনসাফের বিজয়ের মধ্য দিয়ে এর প্রতিশোধ নেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ।’

২১ জুন সাঘাটার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা চত্বরে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লার সাথে যুবদল নেতা মুকুলের কথা কাটাকাটি হয়।  স্থানীয় নেতাদের সমঝোতায় বিষয়টি মীমাংসা হয় এবং সবাই উপজেলা চত্বর থেকে চলে যান। 

১০ মিনিট পর শিবির নেতা সাইফুল্লাহ ও কর্মী সালাউদ্দিন বোনারপাড়া-সাঘাটা সড়কের উপজেলা সংলগ্ন বোনারপাড়া চৌমাথায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় যুবদল নেতা মুকুল মিয়ার নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৩ জন ছুরি দিয়ে জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনকে আঘাত করেন। এসময় বোনারপাড়া ইউনিয়ন শিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাজ বারী এগিয়ে এলে তাকে ধাওয়া করে রাস্তার ফেলে গলায় ছুরিকাঘাত করেন যুবদল নেতা মুকুল মিয়াসহ কয়েকজন। পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সাইফুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। 

গুরুতর আহত জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনকে বগুড়া জিয়াউর রহমান হাসপাতালে ভর্তি নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় । দীর্ঘ ৪৮ দিন চিকিৎসার পরে শনিবার সকালে মারা যান।

এ ঘটনায় নিহত শিবির নেতা সাইফুল্লাহর বাবা হাবিবুর রহমান ২২ জুন সাঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ ১৪-১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। ঘটনার পরপরই দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে মোখলেছুর রহমান মুকুলকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ বহিষ্কার করা হয়।

সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, সাইফুল্লাহ বারী হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত প্রধান আসামি মোখলেছুর রহমান মুকুলসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর