শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

তরুণীদের আটকে পর্নোগ্রাফি তৈরি, স্বামী-স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ গ্রেফতার ৫

জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালী
প্রকাশিত: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৩ এএম

শেয়ার করুন:

তরুণীদের আটকে পর্নোগ্রাফি তৈরি, স্বামী-স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ গ্রেফতার ৫

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় পার্লারে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন জেলা থেকে তরুণীদের আটকে রেখে জোরপূর্বক পর্নোগ্রাফিক ভিডিও তৈরির চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে এই চক্রের মূলহোতা স্বামী-স্ত্রী ও তাদের দুই ছেলেসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার এবং চার তরুণীকে উদ্ধার করেছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিবাগত রাতে চৌমুহনী পৌরসভার কিসমত করিমপুর এলাকার রাবেয়া হাসপাতালের পাশের একটি আবাসিক ভবনে এই অভিযান চালানো হয়। পরে শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে তাদের নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গ্রেফতাররা হলেন— মো. সালাউদ্দিন বিপ্লব, তার স্ত্রী পারভিন আক্তার, তাদের দুই ছেলে ফাহাদ হাসান ও আরাফাত ইয়াসিন ফাহিম এবং আব্দুর রহিম। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা নোয়াখালীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে এই পরিবারটি নোয়াখালীতে ভাড়া বাসায় থেকে অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।

উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগী তরুণীদের মধ্যে একজন গোপনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চান। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ চার তরুণীকে উদ্ধার করে এবং পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি ভিডিও ক্যামেরা, ছয়টি মোবাইল ফোন, একটি চাবুক, ছুরি, কাঁচি এবং নগদ ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, চাকরির লোভ দেখিয়ে তরুণীদের ওই বাসায় এনে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হতো এবং জোরপূর্বক অনৈতিক কাজে বাধ্য করে পর্নোগ্রাফিক ভিডিও ধারণ করা হতো। পরবর্তীতে সেই ভিডিওগুলো একটি অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে সম্প্রচার করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করত চক্রটি। প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো।

 

বেগমগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবীবুর রহমান জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে উদ্ধার হওয়া তরুণীদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিনিধি/

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর