শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তরুণীকে চুরির অপবাদ, গাছে বেঁধে নির্যাতন

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৫ পিএম

শেয়ার করুন:

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তরুণীকে চুরির অপবাদ, গাছে বেঁধে নির্যাতন

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক তরুণীকে চুরির অপবাদ দিয়ে গাছে বেঁধে মারধর, মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং তার দুই ভাই-বোনকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। 

ঘটনাটি গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী শরীয়তউল্লাহ কলেজসংলগ্ন এলাকায় ঘটে। সম্প্রতি এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। 

এ ঘটনায় ওই রাতেই ভুক্তভোগী তরুণীর মা ফাতেমা বেগম (৪১) বাদী হয়ে সখিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সখিপুরের ছৈয়ালকান্দি এলাকার মুদি দোকানদার আবুল মোল্লার ছেলে মনির মোল্লা (২৫) দীর্ঘদিন ধরে ফারিয়া আক্তারকে (১৮) বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা তাকে একাধিকবার সতর্কও করেন বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে ফারিয়া তার ছোট বোন মারিয়া আক্তার (১৩) ও ভাই ফাহিমকে (৭) নিয়ে মনিরের দোকানে কেনাকাটা করতে যান। এ সময় মনির আবারও আপত্তিকর প্রস্তাব দেন। ফারিয়া প্রতিবাদ করলে তিন ভাই-বোনকে জোর করে দোকানের পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে ফারিয়াকে আলাদা কক্ষে নিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং ছোট দুই ভাই-বোনকে বেঁধে রাখা হয় বলে অভিযোগ।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে তিন ভাই-বোনের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলা হয়। পরে ফারিয়াকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়, মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। তাঁর ভাই-বোনকেও মারধর করা হয়।

খবর পেয়ে দুপুরের দিকে সখিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসা শেষে ওই রাতেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তাদের মা।

ভুক্তভোগী ফারিয়ার মা ফাতেমা বেগম বলেন, আমার মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব দেওয়া হচ্ছিল। সেদিন প্রতিবাদ করায় আমার তিন সন্তানকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। মামলা করার পর এখন অভিযোগ তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাই আমরা বাড়ি ছেড়ে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি।

ফারিয়া আক্তার বলেন, আমি কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় আমাকে একটি কক্ষে নিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে চুরির অপবাদ দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয় এবং আমার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

ফারিয়ার বাবা ফারুক বেপারী বলেন, আমার সন্তানদের সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। এখন আমরা নিজের বাড়িতেই নিরাপদ নই। অভিযোগ তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনার সময় উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি মেয়েটির পোশাক এলোমেলো অবস্থায় ছিল। পরে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে চুল কেটে দেওয়া হয়। চুরির অভিযোগের পক্ষে কোনো স্পষ্ট কারণ আমাদের বলা হয়নি। মেয়েটিকে আগে থেকেও উত্ত্যক্ত করা হতো বলে জানি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মনির মোল্লা বলেন, তারা আমার দোকানে চুরি করেছিল। স্থানীয় লোকজন তাদের ধরে রেখেছিল। আমি কাউকে মারধর করিনি। চুলও আমি কাটিনি। কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

ভিডিওতে দেখা যাওয়া অপর অভিযুক্ত আফসানা, ফৌজিয়া সরদার ও নিশি সরদার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হুসাইন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করেছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

প্রতিনিধি/এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর