নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় ১২ বছর বয়সি পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে কালী সাধন দত্ত (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে নেত্রকোনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযুক্তকে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিশুটির জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত কালী সাধন দত্ত বারহাট্টা উপজেলার বাউসি ইউনিয়নের একটি গ্রামের বাসিন্দা। ভুক্তভোগী শিশুটি পাশের গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। শিশুটির বাবা ঢাকায় রিকশাচালক হিসেবে কাজ করেন এবং মা অন্যের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করেন। এ কারণে শিশুটি তার দাদির কাছে থেকে লেখাপড়া করে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বুধবার (৬ আগস্ট) বিকেলে স্কুল শেষে শিশুটি এক বন্ধুর বাড়িতে খেলতে যায়। সেখানে কাউকে না পেয়ে বাড়ি ফেরার পথে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অভিযুক্তের বাড়ির সামনে একটি কুকুর দেখে ভয় পেয়ে আশ্রয়ের জন্য ওই বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় অভিযুক্ত তাকে ঘরের ভেতরে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক বলাৎকার করে।
শিশুটির চিৎকার শুনে পাশের সড়কের একটি সেতুর ওপর অবস্থানরত দুই কিশোর ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে অভিযুক্ত বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে শিশুটিকে বের করে দিলে তারা তার কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন। শিশুটি বাড়িতে ফিরে দাদির কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে।
এরপর দাদি মোবাইল ফোনে শিশুটির বাবাকে বিষয়টি জানান এবং স্থানীয় এক সাবেক ইউপি সদস্যকেও অবহিত করেন। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তকে শিশুটির বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং পুলিশে খবর দেন। পরে বারহাট্টা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগী শিশুটিকে থানায় নিয়ে যায়।
শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বারহাট্টা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কালী সাধন দত্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম বলেন, খবর পেয়ে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করা হয়। পরে এ ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ দুপুরে
কালী সাধন দত্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
প্রতিনিধি/এজে




