ফরিদপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা)-এর অধীনে থাকা এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রশাসন।
এ ঘটনায় তদন্ত করে কমিটি তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে শিশু পরিবারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বহীনতা, অবহেলা ও তদারকির ঘাটতিকেই সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।
২৯ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলামের কাছে জমা দেওয়া দেয় কমিটি।
এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শিশু পরিবারের ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ এহিয়াতুজ্জামান।
তিনি বলেন, সাময়িক বরখাস্তকৃতদের মধ্যে- তত্ত্বাবধায়ক একজন, সহকারী তত্ত্বাবধায়ক একজন, খালাম্মা দুজন, কম্পাউন্ডার একজন ও একজন নার্স রয়েছেন। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশু পরিবারের তত্ত্বাবধায়কসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সংবেদনশীলতা ও সতর্কতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। নিবাসীদের চলাফেরা, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও সার্বিক তদারকিতে গুরুতর ঘাটতি ছিল। এমনকি এক কিশোরী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি এত দীর্ঘ সময় অজানা থাকাকে তদন্ত কমিটির মতে চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রমাণ হিসেবে মনে করছে।
তদন্তে দ্বিতীয় কারণ হিসেবে ভুক্তভোগী কিশোরীর সামাজিক ও পারিবারিক বাস্তবতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দারিদ্র্য, মায়ের মৃত্যুর পর প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে ওঠা এবং সহানুভূতির প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীল মানসিকতা তাকে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
তৃতীয় কারণ হিসেবে অভিযুক্ত দর্জি ব্যবসায়ীর বিকৃত মানসিকতা ও ধর্ষণপ্রবণ আচরণকে দায়ী করেছে তদন্ত কমিটি।
তদন্ত চলাকালে শিশু পরিবারের ব্যবস্থাপনায় নানা অসঙ্গতিও পাওয়া যায়।
কমিটির মতে, তত্ত্বাবধায়কের পদে নারী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিলে নিবাসীদের ওপর আরও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি মাসে অন্তত একবার সব নিবাসীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রতিষ্ঠানে আগত দর্শনার্থীদের নিবন্ধন ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা জোরদারের সুপারিশ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম জানান, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৬ কর্মকর্তা কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিভাগীয় তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে।
৫ জুলাই ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা এলাকায় অবস্থিত সরকারি শিশু পরিবারের (বালিকা) এক ১৪ বছর বয়সী নিবাসী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা প্রকাশ পায়। পরদিন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়। ৭ জুলাই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়া কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত দর্জি মো. ওয়াহিদ শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
প্রতিনিধি/এলএ




