সুনামগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া মসজিদের সেই ইমাম হুমায়ুন আহমেদ (৩০) এর জামিন না মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (৪ জুলাই) দুপুরে পুলিশ তাকে আমল গ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বিশ্বম্ভরপুর জোনে সোপর্দ করলে আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এমদাদ তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
ইমাম হুমায়ুন আহমেদ বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের মধুরকান্দি গ্রামের ইছব আলীর ছেলে। তিনি রতারগাঁও গ্রামের দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের ইমাম।
এদিকে, ওই কলেজ ছাত্রী ২২ ধারায় আদালতে তার জবানবন্দি দিয়েছেন।
ইমাম হুমায়ুন আহমদের জামিন না মঞ্জুর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের জেনারেল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (জিআরও) এ এস আই ফরিদ আহমেদ। জামিন শুনানিতে কোনো আইনজীবী অংশগ্রহণ করেননি বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, বিয়ের প্রলোভনে এক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাঘবের বাজার থেকে ইমাম হুমায়ুনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হুমায়ুন আহমেদ বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার এক জামে মসজিদের ইমামতি করতেন। ইমামতি করার সুবাদে মসজিদের পাশের বাড়ির একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর সঙ্গে প্রেম শুরু করেন। এক পর্যায়ে ফুসলিয়ে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখান। গেল মে মাসের ২৪ তারিখ মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ পাঠিয়ে রাত ৯টার সময় মসজিদ সংলগ্ন ইমামের কক্ষে নিয়ে কিশোরীকে জোর করে ধর্ষণ করেন এবং কাউকে না বলার জন্য চাকু দেখিয়ে ভয় দেখান। এরপর আবারও গেল জুলাই মাসের ১৭ তারিখে দুপুর আড়াইটার দিকে নিজের থাকার ঘরে ওই কিশোরীকে নিয়ে দ্বিতীয় বার ধর্ষণ করেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখান। স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ে করার প্রলোভন দেখান ও একাধিক বার ধর্ষণ করেন। এরপর বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে ওই ছাত্রীকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান ও ভয়-ভীতি দেখান।
এ ঘটনায় গত ২৬ জুলাই ওই কলেজছাত্রীর বাবা ইমাম হুমায়ুন আহমেদের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি রেকর্ড করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্বম্ভরপুর থানার পুলিশকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্ত ইমামকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এদিকে, গ্রেফতার ইমাম হুমায়ুন আহমদের স্বজন ও শুভানুধ্যায়িরা ধর্ষণ মামলাটি মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে, তার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। তদন্তে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হবে বলে দাবি করেছেন তারা।



