জুলাই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেও সরকারি তালিকায় নাম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার আন্দোলনকারীরা।
তাদের অভিযোগ, রাজপথে আন্দোলনে সক্রিয় থাকা অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীর নাম উপজেলা কোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বিপরীতে আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ না করার অভিযোগ রয়েছে- এমন কয়েকজনের নাম জুলাই গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তালিকার স্বচ্ছতা ও যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে এ বিষয়ে ঢাকা মেইল কথা বলে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শামছুল আলম রিপনের সঙ্গে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে তিনি একাধিকবার হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনেও শায়েস্তাগঞ্জে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন তিনি। তার সঙ্গে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শত শত নেতাকর্মী আন্দোলনে মাঠে ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
রিপনের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নির্যাতন-নিপীড়ন উপেক্ষা করে যারা জুলাই আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তাদের মধ্য থেকে প্রকৃত ও ত্যাগী আন্দোলনকারীদের নাম জুলাই যোদ্ধা হিসেবে উপজেলা কোটায় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এতে আন্দোলনকারীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জুলাই গেজেটে শায়েস্তাগঞ্জে সাইফুল ইসলাম ও রুবেল রানা তালুকদারের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কিন্তু তারা শায়েস্তাগঞ্জে জুলাই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেননি বলে দাবি করেন তিনি।
তার প্রশ্ন, যারা আন্দোলনের সময় মাঠে ছিলেন না, তাদের নাম কীভাবে তালিকায় এলো এবং যারা সরাসরি আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, তাদের নাম কেন বাদ পড়ল?
জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে শুধু রাজনৈতিক পরিচয় নয়, আন্দোলনে প্রত্যেকের বাস্তব অংশগ্রহণ, হামলা-মামলার শিকার হওয়া, আহত হওয়া এবং মাঠপর্যায়ের ভূমিকা যাচাই করা প্রয়োজন।
তাদের মতে, শায়েস্তাগঞ্জে জুলাই আন্দোলনের সময় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ছবি, ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, মামলা ও অন্যান্য নথি যাচাই করে প্রকৃত অংশগ্রহণকারীদের চিহ্নিত করা সম্ভব। তাই তালিকা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক নিরসনে নিরপেক্ষ তদন্ত ও পুনঃযাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, জুলাই যোদ্ধার তালিকা কোনো রাজনৈতিক পক্ষের পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে নয়, বরং আন্দোলনে কার কী ভূমিকা ছিল তার প্রমাণের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। গেজেটে যাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তাদেরও আন্দোলনে অংশগ্রহণের প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে সাইফুল ইসলাম ও রুবেল রানা তালুকদারের নাম নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। একই সঙ্গে তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রকৃত আন্দোলনকারীদের নাম পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় আন্দোলনকারীদের মতে, জুলাই আন্দোলন ছিল ছাত্র-জনতার দীর্ঘ সংগ্রামের ফল। এই আন্দোলনে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে ছিলেন, তাদের স্বীকৃতি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অনুগ্রহ নয়; এটি তাদের ত্যাগের স্বীকৃতি। ফলে তালিকা প্রণয়নে সামান্য অনিয়ম বা ভুলও প্রকৃত আন্দোলনকারীদের প্রতি অবিচার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তারা দাবি করেন, উপজেলা পর্যায়ে একটি নিরপেক্ষ যাচাই কমিটি করে বাদ পড়া ও তালিকাভুক্ত—উভয় পক্ষের তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হোক। আন্দোলনের সময়কার ছবি, ভিডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, মামলা-মোকদ্দমার নথি এবং স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তালিকা পুনঃপর্যালোচনা করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।
শামছুল আলম রিপন বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে যারা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে, তাদের বাদ দিয়ে কোনো তালিকা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমরা চাই, প্রকৃত আন্দোলনকারীদের যাচাই করে তাদের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হোক।’
তিনি আরও বলেন, তালিকা নিয়ে কারও প্রতি ব্যক্তিগত বিরোধ বা প্রতিহিংসা নয়; বরং প্রকৃত সত্য উদঘাটন করাই তাদের দাবি। আন্দোলনে কারা ছিলেন এবং কারা ছিলেন না—তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এএইচ



