বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সংসদেই ফিরতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

জেলা প্রতিনিধি, বরিশাল
প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম

শেয়ার করুন:

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে, সংসদেই ফিরতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে পার্লামেন্টের বদলে রাজপথে নেওয়ার অপচেষ্টায় যারা লিপ্ত, তারা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত তাৎপর্য বুঝতে পারছেন না। আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে সংসদকেই রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে হবে।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল নগরের আমতলা মোড়ে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমানের সরকারের পক্ষ থেকে জাতির সামনে আবারও শপথ উচ্চারণ করছি— যে শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি, যে শহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছি, তাদের রক্তের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং অর্জিত গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে গোটা দেশ। মহান স্বাধীনতার পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক, মানবাধিকারসম্মত ও সাম্যের বাংলাদেশ গড়ে ওঠার। কিন্তু নানা কারণে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ফলে রাষ্ট্র ও সমাজ আবারও স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের কবলে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ জাতীয় নেতাদের নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি হয়। সেই আন্দোলনের আবহে একসময়কার শিশু-কিশোররা সাহসী তরুণ যোদ্ধায় পরিণত হয়। আবু সাঈদ, ওয়াসিমসহ অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে দেশনায়ক তারেক রহমান "ফয়সালা হবে রাজপথে"—এই ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত রাজপথেই ফ্যাসিবাদের পরাজয় হয়েছে। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ বর্তমান সরকারকে নির্বাচিত করেছে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই সংসদ একটি কার্যকর সংসদে পরিণত হবে। আন্দোলনের সময় যে ঐক্য গড়ে উঠেছিল, সেই ঐক্য ধরে রেখে মতপার্থক্যের বিষয়গুলো সংসদের বিতর্কেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

তিনি বলেন, যারা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে পার্লামেন্টের বদলে রাজপথে নেওয়ার চেষ্টা করছেন, তারা শহীদদের আত্মত্যাগকে বুঝতে পারছেন না। আবার যারা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক বিতর্কের পরিবর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছেন, তারাও ভুল করছেন।

সব গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, যে ঐক্যের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করা হয়েছে, সেই ঐক্য অটুট রেখে পার্লামেন্টকেই রাজনীতির একমাত্র কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে হবে। এর ব্যত্যয় জনগণ মেনে নেবে না। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা সম্ভব।

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিকশিত এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত দল এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। সব সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান চাইলেও, জনগণের স্বার্থে যে-কোনো অনৈতিক বাধা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর