বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

লিবিয়ায় নিখোঁজ মাদারীপুরের তিন যুবকের সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

জেলা প্রতিনিধি, মাদারীপুর
প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম

শেয়ার করুন:

লিবিয়ায় নিখোঁজ মাদারীপুরের তিন যুবকের সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

লিবিয়ায় বন্দির পর নিখোঁজ মাদারীপুরের তিন যুবকের সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে মাদারীপুর নতুন শহর এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 

পাশাপাশি এ ঘটনার মূলহোতা গ্রেফতার, মানবপাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য ইলিয়াস ফরিককে শোন অ্যারেস্ট দেখানোর দাবি তাদের। গ্রেফতার ইলিয়াস গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার রাঘদী ইউনিয়নের বড়দিয়া গ্রামের আক্কাস ফকিরের ছেলে।

নিখোঁজ যুবকেরা হলেন, মাদারীপুর সদর উপজেলার ছোট দুধখালী গ্রামের করিম হাওলাদারের ছেলে ইব্রাহিম, দক্ষিণ দুধখালী গ্রামের সুক্কুর আলী ফকিরের ছেলে কামরুল জামান, বোয়ালিয়া গ্রামের মোক্তার হোসেন বেপারীর সামি বেপারী।

জানা যায়, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার রাঘদী ইউনিয়নের বড়দিয়া গ্রামের আক্কাস ফকিরের ছেলে ইলিয়াস ফকিরের সঙ্গে ইতালি নেয়ার চুক্তি হয় মাদারীপুর সদর উপজেলার তিনটি পরিবারের। চুক্তি মতে প্রত্যেক পরিবার ২০ লাখ টাকা করে ইলিয়াসকে দেয়। পরে গতবছরের সেপ্টেম্বরে কামরুল জামান, ইব্রাহিম হাওলাদার ও সামি বেপারীকে লিবিয়ায় নিয়ে বন্দি করে মাফিয়ারা। শারীরিক নির্যাতন করে পরিবারের কাছে ভিডিও ও ছবি পাঠিয়ে আদায় করে মুক্তিপণের লাখ লাখ টাকা। কিন্তু ওই তিন যুবককে মুক্তি দেয়নি মাফিয়া চক্র। গত কয়েকমাস ধরে নিখোঁজ যুবকেরা। যুবকদের ফেরত পেতে ও দালালের বিচারের আশায় তিন যুবকের পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হন। পরে আদালতের নির্দেশে সদর মডেল থানায় তিনটি মামলা রেকর্ড হয়। কিন্তু এই মামলাগুলোতে মাফিয়া ডন ইলিয়াস ফরিককে গ্রেফতার করতে পারেনি মাদারীপুরের পুলিশ।

এদিকে, এমন মানবপাচারের অন্য একটি ঘটনায় বরিশালের গৌরনদী মডেল থানায় ইলিয়াস ফকিরসহ ১০ জনের নামে ভুরঘাটা গ্রামের ভুক্তভোগী রাসেল বেপারী মামলা করেন। গত ৩১ জুলাই সিরাজগঞ্জ থেকে ইলিয়াস ফকিরকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১২। পরে বরিশালের আদালতে তোলা হলে ইলিয়াসকে কারাগারে পাঠায় বিচারক। ন্যায় বিচারের স্বার্থে মাদারীপুরের দায়েরকৃত মামলায় ইলিয়াসকে শোন অ্যারেস্ট দেখানোর দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের।

মাদারীপুরের সহকারি পুলিশ সুপার বিমল চন্দ্র বর্মন জানান, মাদারীপুরে ইলিয়াস ফকিকের বিরুদ্ধে একাধিক মানবপাচার মামলা হয়েছে। তবে, তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা নেই। মামলাগুলো তদন্তাধীন। তাই শোন, অ্যারেস্ট দেখানোর সুযোগ নেই। তদন্তে দোষ পাওয়া গেলে ইলিয়াসসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এজে

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর