বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

হিমছড়িতে পাহাড়ধসে মেরিন ড্রাইভ বন্ধ, আটকা পর্যটকবাহী যান

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:০২ পিএম

শেয়ার করুন:

হিমছড়িতে পাহাড়ধসে মেরিন ড্রাইভ বন্ধ, আটকা পর্যটকবাহী যান

টানা ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজারের পর্যটনকেন্দ্র হিমছড়ি এলাকায় পাহাড়ধসে মেরিন ড্রাইভ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কক্সবাজার শহরের সঙ্গে হিমছড়ি, ইনানী ও টেকনাফের সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে হিমছড়ি এলাকায় পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে সড়কের ওপর পড়ে। এতে সড়কের দুই পাশে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে এবং শত শত পর্যটক ও সাধারণ যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন।

পাহাড়ধসে সড়কের ওপর মাটি, পাথর ও গাছপালা পড়ে যায়। ফলে পর্যটকবাহী বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

3ea7012d-37c2-4d4e-bb78-68c476c81808

খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে সড়ক থেকে ধসে পড়া মাটি, পাথর ও গাছপালা সরানোর কাজ শুরু করেন। দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোর থেকে হিমছড়ি ও আশপাশের এলাকায় টানা বৃষ্টি হচ্ছিল। এতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে একপর্যায়ে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে সড়কের ওপর পড়ে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

6a9dab51-b1cf-4cfd-ad3b-248ff1c5400f

পর্যটক আমিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, হঠাৎ পাহাড়ধসে সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে আটকে আছি। বৃষ্টির কারণে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। দ্রুত সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুর রহমান বলেন, বর্ষা মৌসুমে হিমছড়ি ও মেরিন ড্রাইভের পাহাড়ি এলাকায় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিবছরই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

35168c78-648f-433f-9900-6c5a94de3e99

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ধসে পড়া মাটি ও গাছপালা পুরোপুরি অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশে যান চলাচল নিরাপদ নয়। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় এ ধসের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, তাৎক্ষণিকভাবে ধসের মাটি সরিয়ে যোগাযোগ স্বাভাবিক করা গেলেও দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলো চিহ্নিত করে সড়ক ও পর্যটকদের নিরাপত্তায় স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে হিমছড়িসহ কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার এবং মেরিন ড্রাইভে চলাচলের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর