শরীয়তপুর সদর উপজেলার তুলাসার ইউনিয়নের একটি মক্তবের এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এনামুল হক (৪৬) নামে এক ইমামকে আটক করেছে পুলিশ। তবে অভিযুক্তের পরিবার ও স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে তুলাসার ইউনিয়নের বাইশরশি জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এনামুল হক প্রায় ১০ বছর ধরে বাইশরশি জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি রাজগঞ্জ ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষক।
অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী ও তার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া ভাই মক্তবে পড়তে যায়। একপর্যায়ে ছোট ভাইকে পানি আনতে বাইরে পাঠিয়ে ওই ছাত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা এনামুল হককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বলেন, ছেলে-মেয়ে প্রতিদিনের মতো মক্তবে পড়তে গিয়েছিল। পরে মেয়ের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এনামুল হকের ছেলে এহসানুল হক কাউসার। তার দাবি, শিশুটি পড়া না পারায় তাকে সামান্য শাসন করা হয়েছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বাবার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার সময় এনামুল হকও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তার ভাষ্য, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে এবং তিনি কোনো অনৈতিক কাজ করেননি।
স্থানীয় মুসল্লি গফুর সরদার ও শামসুল হক মাদবর বলেন, দুই শিশু দুষ্টুমি করায় তাদের শাসন করা হয়েছিল। পরে ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে ইমামের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের দাবি, এনামুল হকের বিরুদ্ধে এর আগে এমন কোনো অভিযোগ ওঠেনি। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান তারা।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, এক ইমামের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে লিখিত আবেদন পাওয়া গেছে। অভিযোগের পর তাকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এসএস




