সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

কাস্টমস সিপাহির ১৫ টুকরা লাশ উদ্ধার, ২৪ ঘণ্টায়ও নেই গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম

শেয়ার করুন:

যুবকের ১৫ টুকরা লাশ উদ্ধার, ২৪ ঘন্টায়ও নেই গ্রেফতার
নিহত আবু রায়হান তালুকদার। ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় নিখোঁজের ৯ দিন পর কাস্টম হাউসে কর্মরত আবু রায়হান তালুকদার (৪০) নামে একজনের ১৫ টুকরো করা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা পার হলেও এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। 

রোববার দুপুরে উপজেলার এনাযেতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর এলাকায় একটি বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত পুকুর থেকে লাশের খণ্ডিত অংশগুলো উদ্ধার করা হয়। এসময় পুকুরে ভাসতে থাকা চারটি ব্যাগ ও একটি কাপড়ের পোটলার ভেতর থেকে খণ্ডিত টুকরোগুলো পাওয়া যায় বলে জানায় স্থানীয়রা।

নিহত আবু রায়হান তালুকদার উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কমলাপুর কাস্টম হাউসে সিপাহী পদে কর্মরত ছিলেন। ২৪ জুলাই থেকে রায়হান তালুকদার নিখোঁজ ছিলেন।

এই বিষয়ে সোমবার বিকেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন মোবাইল ফোনে ঢাকা মেইলকে জানান, এখানও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। আমাদের টিম কাজ করছে। সন্দেহ তালিকায় কেয়ারটেকার রাজু ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।

নিহতের স্বজনরা সংবাদমাধ্যমকে জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন আবু রায়হান। পরদিন শুক্রবার কর্মস্থলে ফেরার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন।

পরিবারের দাবি, কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুল তাকে এগিয়ে দেওয়ার কথা বলে সঙ্গে নিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। 

দুই দিন পর কর্মস্থল থেকে সহকর্মীরা পরিবারের সদস্যদের জানান, আবু রায়হান অফিসে যোগ দেননি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না মেলায় ২৭ জুলাই তার বড় ভাই মো. নূরুল ইসলাম ফুলবাড়ীয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, রায়হান নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুল আত্মগোপনে রয়েছেন। তারা দুজনই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে পরিবারের সন্দেহ।

পরিবার জানায়, স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর আবু রায়হান একাই থাকতেন। ঢাকায় চাকরি করলেও বৃদ্ধ মাকে দেখতে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই গ্রামের বাড়িতে আসতেন। রাজু নামে এক কিশোরকে তিনি বাড়িতে রেখে দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তার লেখাপড়ার খরচ ও মাসিক ভাতাও বহন করতেন।

ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর মরদেহ ১৫ টুকরো করে ব্যাগ ও কাপড়ের পোটলায় ভরে পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছিল। কয়েক দিন পানিতে থাকায় পচে ভেসে ওঠে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর