এক স্ত্রীকে ছেড়ে আরেক স্ত্রীকে বিয়ে করেছিলেন রফিউদ্দিন। কিন্তু বছর ঘুরতেই আবার প্রথম স্ত্রীকে বিয়ে করে ঘরে তোলেন তিনি। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবার। সেই ক্ষোভে জামাই রফিউদ্দিনের বাড়িঘর ভেঙে দেয় তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন। মাটিকাটা এস্কেভেটর দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় তার ঘরবাড়ি।
রোববার (২ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খেজুরতলা গ্রামের মৃত রোমজান আলীর ছেলে রফিউদ্দিনের সঙ্গে একই গ্রামের সহিদুল ইসলামের মেয়ে ছনিয়া খাতুনের বিয়ে হয়। রফিউদ্দিন দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার সুযোগে ছনিয়া খাতুন এক ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে অজানার উদ্দেশ্যে চলে যান বলে স্থানীয়রা জানান। পরে বিষয়টি নিয়ে থানায় বিচার-শালিশের মাধ্যমে মীমাংসা হয় এবং ছনিয়া খাতুন ওই ইতালি প্রবাসীর সঙ্গেই থেকে যান।

এরপর মালয়েশিয়া প্রবাসী রফিউদ্দিন দেশে ফিরে একই গ্রামের মুকুল হোসেনের মেয়ে রিমা খাতুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের প্রায় এক বছর পর রফিউদ্দিন আবার তার প্রথম স্ত্রী ছনিয়া খাতুনকে বিয়ে করে ঘরে তুলে নেন।
এ ঘটনায় রফিউদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রী রিমা খাতুনের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সকালে মাটিকাটা এস্কেভেটর দিয়ে রফিউদ্দিনের বাড়িঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

ঘরবাড়ি ভাঙার সময় স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। অনেকে ঘটনাটিকে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখলেও, বাড়িঘর ভাঙার ঘটনায় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, রফিউদ্দিনের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ রয়েছে। তাদের দাবি, দ্বিতীয় স্ত্রী রিমা খাতুন অত্যন্ত ভদ্র ও নম্র স্বভাবের মেয়ে। তার সঙ্গে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নাগদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বোরহান উদ্দিন মেম্বার বলেন, মুকুল হোসেনের মেয়ে রিমা অত্যন্ত ভদ্র ও অমায়িক। তার জীবন নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলা উচিত হয়নি। তবে ক্ষোভের কারণে এভাবে ঘরবাড়ি ভেঙে না দিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলে ভালো হতো।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বানী ইসরায়েল বলেন, ঘটনা সম্পর্কে অবগত আছি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/টিবি




