রোববার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

স্লুইসগেটে ধস, হুমকিতে কৃষিজমি

জেলা প্রতিনিধি, নীলফামারী
প্রকাশিত: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম

শেয়ার করুন:

স্লুইসগেটে ধস, হুমকিতে কৃষিজমি
ধসে পড়া স্লুইসগেট। ছবি: ঢাকা মেইল

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের পুব হলহলিয়া গ্রামের হরিডারা নদীর ওপর নির্মিত একটি স্লুইসগেট ধসে পড়ে একটি বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। একই সঙ্গে শত শত বিঘা কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ পরিবারের মানুষ।

রবিবার দুপুর ১ টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, স্লুইসগেটটি দিয়ে নদীর পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হতো। সকাল থেকেই গেটটি ধীরে ধীরে নিচের দিকে বসে যেতে থাকে। একপর্যায়ে পানি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলে পানির চাপ বেড়ে যায়। পরে সেতুর পাশে ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশ করতে শুরু করলে সেখানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ভাঙন ভয়াবহ রূপ নেয় এবং পাশের একটি বসতবাড়ির অর্ধেক অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, সকাল থেকেই ব্রিজটি নিচের দিকে বসে যেতে শুরু করে। এরপর নদীর বাঁধের পাশ দিয়ে ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি যাওয়া শুরু করে। একপর্যায়ে পাশের বাড়িটির অর্ধেক অংশ নদীতে চলে যায়।

আরেক বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, এই স্লুইসগেট দিয়েই এলাকার পানি নিয়ন্ত্রণ করা হতো। এখন এটি ভেঙে যাওয়ায় বর্ষা ও শুষ্ক— দুই মৌসুমেই কৃষকরা বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন। দ্রুত নতুন স্লুইসগেট নির্মাণ করা প্রয়োজন।

স্থানীয় কৃষক মো. আহিনুর ইসলাম বলেন, এই স্লুইসগেটের সামনে শত শত বিঘা জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ হয়। স্লুইসগেট না থাকলে পানি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না। এতে জমি অনাবাদি হয়ে যাবে এবং কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।

জোড়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হাবীব বাবু বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

ভেঙে যাওয়া বাড়ির মালিক হালিমা বেগম বলেন, এখানে গেটের সঙ্গে পাটের ঝাঁক দেওয়া ছিল। এর ফলে পানি আটকে যায়। আমি গেট খোলার জন্য চিৎকার করছিলাম, গেটটা খুলে দেন। কেউ শুনল না। ১০ মিনিটের মধ্যে আমার বাড়ি ভেঙে চলে গেল। আমি অন্যের বাসায় কাজ করে খাই। কীভাবে বাড়ি ঠিক করব।

ডোমার উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ আলম বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশের কারণে ভাঙনের সূচনা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর