শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

গাছে বেঁধে দুই শিক্ষার্থীকে ‘নির্যাতন’, স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

জেলা প্রতিনিধি, গোপালগঞ্জ
প্রকাশিত: ০১ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৪ পিএম

শেয়ার করুন:

গাছে বেঁধে দুই শিক্ষার্থীকে ‘নির্যাতন’, অপমান সইতে না পেরে স্কুলছাত্রী
স্কুল মাঠে গাছে বাঁধা দুই শিক্ষার্থী। ছবি: ঢাকা মেইল

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় এক স্কুলছাত্রী ও এক তরুণকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গাছের সঙ্গে বেঁধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অপমান ও মানসিক আঘাত সইতে না পেরে স্কুলছাত্রীটি বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে দাবি তার পরিবারের। 

২৮ জুলাই উপজেলার একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটলেও শুক্রবার রাতে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। 

ভুক্তভোগী ছাত্রী ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্র ও ভাইরাল ভিডিও থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে এবং এক তরুণকে তার বাড়ি থেকে ডেকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। আগের দিন তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখা গেছে— এমন অভিযোগ তুলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের একটি দেবদারু গাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে দুজনকে বেঁধে রাখা হয়। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় নয়ন বাড়ৈ, জয় শিকদার, মিশন রায়সহ আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে নয়ন বাড়ৈ বলেন, আপত্তিকর অবস্থায় ধরার পর এলাকার কয়েকজন যুবক তাদের আমার বাড়ির সামনে দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। আমি তাদের বিদ্যালয়ে নিয়ে অভিভাবকদের হাতে তুলে দিই। তবে গাছে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়টি আমার জানা নেই।

স্থানীয়দের দাবি, নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়া এবং সামাজিক অপমানের কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে ওই ছাত্রী। পরে সে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরে তাকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ সরকার বলেন, ঘটনার দিন আমি বিদ্যালয়ে ছিলাম না। বিষয়টি পরে শুনেছি। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ঢাকায় ছিলেন। তিনি ফিরে এলে তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর