শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ঢাকা

বারহাট্টায় অভিভাবকদের না জানিয়েই স্কুল পরিচালনা কমিটি গঠনের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম

শেয়ার করুন:

বারহাট্টায় অভিভাবকদের না জানিয়েই স্কুল পরিচালনা কমিটি গঠনের অভিযোগ

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার উজানগাঁও মনাষ আব্বাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবক ও স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, অভিভাবকদের মতামত না নিয়েই গোপনে কমিটির তালিকা শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সভাপতি পদের প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই না করেই তার নাম অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক সেলিম পরিচালনা কমিটির সদস্যদের নাম গোপনে শিক্ষা বোর্ডে পাঠিয়েছেন। সভাপতি পদে আনোয়ার হোসেনের নাম প্রস্তাব করা হয়। তাদের দাবি, বিধিমতে সভাপতি পদে মনোনীত ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমান হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু আনোয়ার হোসেন ২০০৫ সালে আলিয়া মাদরাসা থেকে ফাজিল পাস করেছেন, যা সে সময় স্নাতক সমমান হিসেবে স্বীকৃত ছিল না।

অভিযোগে আরও বলা হয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিনা আক্তারও সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই না করেই তালিকাটি শিক্ষা বোর্ডে পাঠিয়েছেন।

a6686b3d-e55e-4709-9f41-9859df984486

বিদ্যালয়ের অভিভাবক মো. মিলন মিয়া ও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পরিচালনা কমিটি গঠনের আগে অভিভাবক সভা করার নিয়ম থাকলেও তাদের কিছু জানানো হয়নি। তাদের ভাষ্য, এলাকায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী অনেক যোগ্য ব্যক্তি থাকা সত্ত্বেও অন্য গ্রামের একজনকে সভাপতি করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. হারুল মিয়া বলেন, আগে অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হতো। এবার গোপনে কমিটি করা হয়েছে বলে তার অভিযোগ। তিনি এ কমিটি বাতিল এবং অভিযোগের তদন্ত দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক সেলিম বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ারুল হক যাদের নাম পাঠাতে বলেছেন, তিনি সেই নামই পাঠিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘২০০৫ সালের ফাজিল সনদ স্নাতক সমমান নয়—এ বিষয়টি আমার জানা ছিল না।’

২০০৫ সালের ফাজিল সনদের মান সম্পর্কে জানতে চাইলে নেত্রকোনা জেলা কেন্দ্রীয় আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বাতেন বলেন, ‘২০০৮ সাল থেকে ফাজিল সনদ স্নাতক সমমান হিসেবে বিবেচিত হয়। এর আগে অর্জিত ফাজিল সনদ স্নাতক সমমান ছিল না।’

faf9e693-05a6-4b44-8b0c-2e5f7781501c

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিনা আক্তার বলেন, অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে মতামত চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মতামত পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নতুন কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার সনদ স্নাতক সমমান কি না, তা যাচাই করেই আমাকে সভাপতি মনোনীত করা হয়েছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, তিনি সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের মাধ্যমে এ পদে মনোনীত হয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ারুল হকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবির আহমেদ বলেন, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় প্রধান শিক্ষক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট থাকে। শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কোনো ত্রুটি থাকলে তা শিক্ষা বোর্ডের নজরে আনা হবে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর