মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটে মাত্র ৫০০ মিটার সড়কের মধ্যে দুই দফা টোল আদায়ের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দর্শনার্থীরা। তাদের অভিযোগ, অতিরিক্ত টোল, হয়রানি ও টোল আদায়কারীদের দুর্ব্যবহারের কারণে ঘাটে পর্যটকের সংখ্যা কমে গেছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তবে বিআইডব্লিউটিএ বলছে, সরকারি বিধি মেনেই ইজারার মাধ্যমে টোল আদায় করা হচ্ছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সরেজমিনে শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে ঘাটের প্রবেশমুখে পৌঁছালে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও পিকনিকের বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে টোল আদায় করা হচ্ছে। অল্প দূরত্বের মধ্যেই আবারও আরেকটি স্থানে টোল দিতে হচ্ছে চালকদের।
দর্শনার্থীদের অভিযোগ, মোটরসাইকেল থেকে দুই দফায় ৬০ টাকা এবং ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত অঙ্কের রশিদও দেওয়া হচ্ছে না। টোল দিতে আপত্তি জানালে দুর্ব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মারধরের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

রাজধানী থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা সুমনা আক্তার বলেন, ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত মহাসড়কে যে টোল দিতে হয়েছে, ঘাট এলাকায় মাত্র কয়েক শ মিটার যেতে তার চেয়েও বেশি টাকা দিতে হয়েছে।
মোটরসাইকেল আরোহী সাইফুল আলম মজুমদার বলেন, একই এলাকায় দুইবার টোল আদায় অযৌক্তিক। টাকা দিতে আপত্তি জানালে টোল আদায়কারীরা ভয়ভীতি দেখান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ঢাকা থেকে আসা আরেক দর্শনার্থী সাইফুদ্দিন ব্যাপারী অভিযোগ করেন, টোল আদায়ের সময় নারী পর্যটকদেরও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে মানুষ শিমুলিয়া ঘাটে আসা বন্ধ করে দেবে।
স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী নাজমুল হাসান পিন্টু, শরীফ মোল্লা ও আহাম্মেদ দেওয়ানসহ কয়েকজন বলেন, নতুন টোল ব্যবস্থা চালুর পর গত দুই সপ্তাহে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এতে তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জুলাই প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকায় শিমুলিয়া ঘাট ইজারা দেওয়া হয় স্থানীয় ঠিকাদার আলমগীর হোসেনকে।
ইজারাদার আলমগীর হোসেন বলেন, বিআইডব্লিউটিএর নির্দেশনা অনুযায়ীই টোল আদায় করা হচ্ছে। ইজারার শর্ত অনুযায়ী তারা দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে শিমুলিয়া ঘাটের বন্দর কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজ বলেন, এটি চাঁদাবাজি নয়, সরকারি রাজস্ব আদায়ের অংশ। টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হয়েছে। তবে কোন যানবাহন থেকে কত টাকা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি ইজারার শর্ত অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।

মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ অভিযোগ করেন, মাত্র ৫০০ মিটার সড়কে দুই দফা টোল আদায় এবং পর্যটকদের হয়রানির ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু বলেন, কাছাকাছি দুটি টোল আদায় নিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসনও এ বিষয়ে কাজ করছে। দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছি।

স্থানীয়দের দাবি, মাত্র ৫০০ মিটার ব্যবধানে দুটি টোল আদায় কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। তারা দ্বৈত টোল ব্যবস্থা বাতিল, অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধ এবং টোলকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিনিধি/এসএস




