বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ঢাকা

ইউএনও কার্যালয়ে কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

জেলা প্রতিনিধি, জামালপুর
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম

শেয়ার করুন:

ইউএনও কার্যালয়ে সরকারি কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ, অভিযুক্ত যুবদল নেতা
ইসলামপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান মলিন।

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ঢুকে এক সরকারি কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান মলিনের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেছেন, তিনি কেবল দুই পক্ষের বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করেছেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার আব্দুল লতিফ মিয়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী এবং উপজেলা সরকারি কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি।

স্থানীয় সূত্র ও সমাজসেবা কার্যালয় জানায়, চরপুটিমারী ইউনিয়নের বেনুয়ারচর আব্দুল মালেক মণ্ডল এতিমখানার পরিচালনা কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। গত ২৫ জুন আগের কমিটির মেয়াদ শেষ হলে একটি পক্ষ পুনরায় অনুমোদনের আবেদন করে। পরে অপর পক্ষও নতুন কমিটির অনুমোদনের আবেদন জমা দেয়। জটিলতা তৈরি হওয়ায় উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় দুটি আবেদন নিষ্পত্তির জন্য জেলা কার্যালয়ে পাঠায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মঙ্গলবারের ঘটনার সূত্রপাত বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আব্দুল লতিফ মিয়া বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে ফ্যামিলি কার্ডের জরিপকাজে সুপারভাইজার পদে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষার দায়িত্বে তিনি ইউএনও কার্যালয়ের পাশে গোপনীয় সহকারীর (সিএ টু) কক্ষে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একটি অপরিচিত নম্বর থেকে তাকে বাইরে যেতে বলা হয়। তিনি দায়িত্বের কারণে বাইরে যেতে অপারগতা জানালে হামিদুর রহমান মলিনের নেতৃত্বে কয়েকজন ওই কক্ষে প্রবেশ করেন। তারা এতিমখানার কমিটির বিষয়ে জানতে চান। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিলে তারা গালাগাল শুরু করেন এবং তাকে কিল-ঘুষি মারেন। পরে আনসার সদস্য ও অন্যান্য কর্মচারী এসে তাকে উদ্ধার করেন।

উপজেলা পরিষদের গোপনীয় সহকারী মো. সুমন মণ্ডল বলেন, আনসার সদস্য ও কর্মচারীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। ইউএনও কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা এহসানুল হক জানান, পাশের কক্ষে হৈচৈ শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান। তবে মারধরের ঘটনা তিনি সরাসরি দেখেননি বলে দাবি করেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে হামিদুর রহমান মলিন বলেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতিমখানার পরিচালনা কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হচ্ছিল। তিনি কেবল পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কমিটি অনুমোদনের নামে আব্দুল লতিফ মিয়া ২০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ মো. জুবায়ের বলেন, ঘটনার সময় তিনি কার্যালয়ের বাইরে ছিলেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কমিটির পরবর্তী সভায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর