ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের লক্ষীদাসের হাট থেকে চরনশিপুর, ভাসানচর ও অম্বিকাপুর হয়ে শহরের আলীপুর মোড় পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ ও ভাঙা কিনারার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী ও যানবাহনচালকেরা। সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে গুরুতর অসুস্থ রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স চলাচল করতে পারে না। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এতে প্রতিদিন যাতায়াতকারী প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকেরা জানান, সড়কটির বিভিন্ন অংশ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় অনেক যানবাহন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে সময় ও যাতায়াত ব্যয়—দুই-ই বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লক্ষীদাসের হাট থেকে দুর্গাপুর ডাবল ব্রিজ হয়ে আলীপুর মোড় পর্যন্ত এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক শ অটোরিকশাসহ হাজারো যানবাহন চলাচল করে। কয়েক মাস আগে লক্ষীদাসের হাট থেকে দুর্গাপুর ওমেদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে কাচারিটেক বেড়িবাঁধ পর্যন্ত অংশ সংস্কার করা হলেও ওমেদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে চরনশিপুর, ভাসানচর ও অম্বিকাপুর খেয়াঘাট হয়ে শহরমুখী সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ রয়ে গেছে। বিশেষ করে ওমেদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে হাজী পরস উল্লাহপাড়ার শাজাহান মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিটার সড়ক ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যান চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
একই অবস্থা অম্বিকাপুর ইউনিয়নের আনসার উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয় ও গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কেও। এসব স্থানে চলাচলের সময় প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন মানুষ। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করছেন।
ওমেদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আরিফা সুলতানা বলেন, সড়কটি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত যে শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসা-যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক সময় কাদায় পা পিছলে তারা আহত হয়। এতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।
এই সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী অটোরিকশাচালকেরা বলেন, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। বর্ষাকালে গর্তগুলো পানিতে ঢেকে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

মাহিন্দ্রা (অটোরিকশা) চালক রিপন শেখ বলেন, এই সড়কে গুরুতর অসুস্থ রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স চলতে পারে না। অনেক সময় প্রসববেদনায় আক্রান্ত গর্ভবতী নারীসহ গুরুতর রোগীদের কয়েক কিলোমিটার ঘুরে শিবরামপুর হাইওয়ে হয়ে শহরের হাসপাতালে নিতে হয়। এতে মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি খরচও বেড়ে যায়।
ঈশান গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন মিয়া বলেন, ২০২৪ সালের শুরুতে সড়কটি সংস্কার করা হলেও অজানা কারণে ওমেদিয়া স্কুল থেকে হাজী পরস উল্লাহপাড়ার শাজাহান মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত অংশটি বাদ দেওয়া হয়। এ ছাড়া সংস্কারকাজের মানও ভালো ছিল না। ফলে মাত্র দুই বছরের মধ্যেই সড়কের অনেক জায়গায় আবার খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতে কাজের মান নিশ্চিত করা জরুরি।
এ বিষয়ে ফরিদপুর সদর উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশের বিষয়ে আমরা অবগত আছি। সংস্কারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
ফরিদপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বলেন, আগেরবার সংস্কারের সময় কেন ওই ৩০০ মিটার অংশ বাদ পড়েছিল, তা জানা নেই। চলতি অর্থবছরে ওই অংশসহ পুরো সড়ক সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করছি, বছরের শেষ দিকে সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, জনদুর্ভোগ কমাতে আমরা কাজ করছি। প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এসএস




