গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বৈষ্ণবদাস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন প্রধান গোলাপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক-কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সম্প্রতি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত অনুপস্থিত থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন প্রধান গোলাপ দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। মাঝে মধ্যে পিয়নের মাধ্যমে হাজিরা খাতা বাড়িতে এনে একসঙ্গে স্বাক্ষর করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া টিউশন ফির অর্থ আত্মসাৎ, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিপুল কুমারের মৃত্যুর পর তার কল্যাণ তহবিল ও অবসর ভাতার কাগজপত্র প্রস্তুতের নামে অর্থ গ্রহণ এবং প্রতিহিংসাবশত তিনজন শিক্ষকের বেতনের তথ্য এমপিওর (এফটি) জন্য জমা না দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ে এখনো কোনো সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বা দায়িত্ব প্রদান করা হয়নি। পাশাপাশি আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে পরিচালনা কমিটি গঠন করে বিভিন্ন অনিয়মের সুযোগ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবক বলেন, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ ও মান রক্ষায় অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন প্রধান গোলাপের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
সাদুল্লাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সৈয়দ মনিরুল হাসান বলেন, প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন প্রধান গোলাপের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস




