উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। সাগরে ছোট-বড় ঢেউ তীরে আছড়ে পড়ছে, বাতাসের চাপ বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি থেকে মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশও ঘন মেঘে ঢাকা।
আবহাওয়া অধিদফতরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রোববার (২৬ জুলাই) দুপুর ১২টায় মৌসুমি নিম্নচাপটি পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৬৫ কিলোমিটার, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৪৫ কিলোমিটার, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪২৫ কিলোমিটার এবং কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪১৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং আরও ঘনীভূত হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে নিম্নচাপের আশপাশের সাগর উত্তাল রয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর, উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই পায়রা, মোংলা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাছ ধরার ট্রলার ও নৌযানগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
এদিকে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী বলেন, মৌসুমি নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হতে পারে। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণও বাড়তে পারে।
প্রতিনিধি/এসএস




