শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ায় টর্চার সেলে কুমিল্লার ৬ যুবক, মুক্তিপণ দাবি

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা
প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম

শেয়ার করুন:

লিবিয়ায় টর্চার সেলে কুমিল্লার ৬ যুবক, মুক্তিপণ দাবি দেড় কোটি টাকা
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ছয় যুবক। ছবি: সংগৃহীত

পরিবারের দারিদ্র্য ঘোচাতে এবং উন্নত জীবনের আশায় ইতালির উদ্দেশে দেশ ছাড়েন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ছয় যুবক। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই তারা লিবিয়ায় মানব পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়েন। বর্তমানে একটি টর্চার সেলে আটকে রেখে তাদের মুক্তির জন্য দেড় কোটি টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবারগুলো। মুক্তিপণের টাকা আদায়ে তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। নির্যাতনের ভিডিও পাঠানো হচ্ছে স্বজনদের কাছে। 

জিম্মি হওয়া যুবকেরা হলেন মনোহরগঞ্জ উপজেলার খিলা ইউনিয়নের দিশাবন্দ গ্রামের শাহাদাত হোসেন (২০), মানিকুল ইসলাম (২০), মো. সোহেল (২৭), তাজ মোহাম্মদ (২৫), ফয়সাল (২০) এবং লক্ষণপুর ইউনিয়নের বেতিয়াপাড়া গ্রামের মেহেদী হাসান (২১)।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে জনপ্রতি ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা দিয়ে ইতালি যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তবে লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের মানব পাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রায় আট মাস আটকে রাখার পর সম্প্রতি তাদের আরেকটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে একটি গোপন আস্তানায় আটকে রেখে প্রত্যেকের জন্য ২৫ লাখ টাকা করে, মোট দেড় কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে।

মানিকুল ইসলামের বাবা মাহবুবুর রহমান বলেন, দিশাবন্দ গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে মানিকের মাধ্যমে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে প্রায় নয় মাস আগে তার ভাই সামছুল আলম ২০ লাখ টাকা নেন। পরে তার ছেলেকে লিবিয়ায় নেওয়া হলেও সেখানে একটি দালালচক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এখন মুক্তিপণের দাবিতে তার ছেলের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

একই অভিযোগ করেন সোহেলের বাবা হারুনুর রশিদ। তিনি বলেন, প্রায় আট মাস আগে সামছুল আলমের মাধ্যমে ১৮ লাখ টাকা দিয়ে ছেলেকে ইতালি পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর সেও দালালচক্রের হাতে জিম্মি হয়। এখন মুক্তিপণের দাবিতে তার ওপরও নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

পরিবারগুলোর দাবি, দালালরা ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপে নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে দ্রুত টাকা পরিশোধের চাপ দিচ্ছে। ভিডিওতে যুবকদের আর্তচিৎকার ও নির্যাতনের দৃশ্য দেখে পরিবারের সদস্যরা চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্যাতনের ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর অভিযুক্ত দালাল সামছুল আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা ১০ থেকে ১২ দিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন। অন্যদিকে লিবিয়ায় অবস্থানরত মূল দালাল মানিকের সঙ্গেও এখন আর কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

ছয় যুবককে জীবিত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করেছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপও কামনা করেছে তারা।

এ বিষয়ে মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক মওদুদ আবদুল্লাহ শুভ্র বলেন, লিবিয়ায় আটকে থাকা ছয় যুবককে নির্যাতনের হাত থেকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত স্থানীয় দালালদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর