কক্সবাজারের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫ হাজার পরিবারের মাঝে পর্যায়ক্রমে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করছে আইএসডিই বাংলাদেশ। এরই অংশ হিসেবে দ্বিতীয় ধাপে চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ও কৈয়ারবিল ইউনিয়নের আরও ১ হাজার পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) সৌদি আরবের কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার (কেএসরিলিফ)-এর অর্থায়নে পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে ৫০০ এবং কৈয়ারবিল ইউনিয়নে ৫০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়।
এর আগে প্রথম ধাপে চকরিয়া পৌরসভার ১ হাজার বন্যাকবলিত পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছিল। আইএসডিই বাংলাদেশ জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে বাকি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছেও সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি চাল, ৭ কেজি ডাল, ৩ লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি চিনি এবং ১ কেজি লবণ সমন্বয়ে একটি খাদ্য প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির মতে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক খাদ্য চাহিদা পূরণে এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং সমাজসেবীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় বহু পরিবার ঘরবাড়ি, খাদ্যসামগ্রী ও জীবিকার উৎস হারিয়ে মানবিক সংকটে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে খাদ্য সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
আইএসডিই বাংলাদেশের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি মানবিক দায়িত্ব। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে ইতোমধ্যে ২ হাজার পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে ৫ হাজার পরিবারের সবার কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।’
খাদ্য সহায়তা পাওয়া উপকারভোগীরা জানান, বন্যার কারণে অনেক পরিবার আয়-রোজগারের উৎস হারিয়েছে। এমন সময়ে এই সহায়তা তাদের জন্য বড় স্বস্তি হয়ে এসেছে এবং পরিবারের খাদ্যসংকট কিছুটা হলেও কমিয়েছে।
আইএসডিই বাংলাদেশ জানায়, এর আগে হোস্ট কমিউনিটির বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকা ও রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরসহ প্রায় ৫৬ হাজার মানুষের মধ্যে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে থাকা মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংস্থাটি।
এমআর/এমআই




