মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

‘আম্মু, আমাদের আব্বু কই?’—জুলাই শহীদ হাফিজুলের সন্তানদের অপেক্ষা

জেলা প্রতিনিধি, পিরোজপুর
প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম

শেয়ার করুন:

‘আম্মু, আমাদের আব্বু কই?’—জুলাই শহীদ হাফিজুলের সন্তানদের অপেক্ষা
জুলাই আন্দোলনে শহীদ হাফিজুলের ৩ শিশু সন্তান আজও বাবার অপেক্ষায়। ছবি: সংগৃহীত

চার বছরের আব্দুল আহাদ ও তিন বছরের আব্দুর রহিম প্রায়ই মায়ের কাছে এই প্রশ্ন করে। মা বলেন, ‘তোমাদের আব্বু আল্লাহর কাছে চলে গেছেন।’ তখন শিশুরাও সরল মনে জানায়, তারাও আল্লাহর কাছে যেতে চায়। তারা এখনো জানে না, তাদের বাবা হাফিজুল ইসলাম ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছিলেন।

হাফিজুলের মৃত্যুর সময় তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর জন্ম নেয় ছোট ছেলে আব্দুর রাজ্জাক। এখন তার বয়স ১৮ মাস। আর কিছুদিন পর সেও হয়তো মায়ের কাছে জানতে চাইবে, তার বাবা কোথায়।

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার চর রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু বক্কর সিকদারের ছেলে হাফিজুল ইসলাম (৩৫) পেশায় ছিলেন রিকশাচালক। জীবিকার তাগিদে পরিবার নিয়ে ঢাকার পূর্ব বাড্ডার রূপনগর এলাকায় থাকতেন।

২০২৪ সালের ২০ জুলাই রাজধানীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলছিল। প্রতিদিনের মতো সেদিনও রিকশা নিয়ে কাজে বের হন হাফিজুল। মধ্য বাড্ডা এলাকায় পৌঁছালে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী, বিজিবি ও পুলিশের সংঘর্ষের মধ্যে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। আন্দোলনকারীরা তাঁকে উদ্ধার করে বাড্ডা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ঢাকার বাড্ডার বরকতপুর কবরস্থানে তাঁর দাফন করা হয়।

হাফিজুলের স্ত্রী মানসিক প্রতিবন্ধী। তিন সন্তান এখন লালন-পালন করছেন তাদের ছোট খালা সালমা আক্তার।

সালমা আক্তার বলেন, ‘সরকারের সহযোগিতায় আমরা সন্তুষ্ট। তবে বাসাভাড়া ও তিনটি শিশুকে নিয়ে সংসার চালাতে কষ্ট হয়। ওদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সরকার যদি আরও সহায়তা করে, তাহলে অনেক উপকার হবে।’

প্রতিনিধি/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর