বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

নানা আয়োজন আর শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ  

জেলা প্রতিনিধি, গাজীপুর
প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম

শেয়ার করুন:

নানা আয়োজন আর শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ  
জনপ্রিয় কথাসাহিত্যক হুমায়ূন আহমেদ

জনপ্রিয় কথাসাহিত্যক হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (রোববার)। দিনটি উপলক্ষে লেখকের প্রিয় ঠিকানা নুহাশ পল্লীতে দিনব্যাপী আয়োজনে রয়েছে মিলাদ, কোরআন খানি ও মিলাদ মাহফিল । এ ছাড়া এতিমদের খাবার বিতরণসহ নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি।

সকাল থেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে হুমায়ূন পরিবার, তার অগণিত ভক্ত, কবি, লেখক আর নাট্যজনদের সমাগম ঘটেছে নুহাশ পল্লীর লিচু তলায় লেখকের কবরে। ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করা হয় জনপ্রিয় এই লেখককে।

নুহাশ পল্লীতে হুমায়ূন ভক্তদের জন্য একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি বা পাঠাগার স্থাপনের দাবির প্রেক্ষিতে তার সহধর্মিণী মেহের আফরোজ শাওন জানিয়েছেন, সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত লাইব্রেরি করার কোনো পরিকল্পনা তাদের আর নেই।

সরেজমিনে নুহাশ পল্লী ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টি আর সবুজ প্রকৃতিকে বড্ড বেশি ভালোবাসতেন নন্দিত লেখক  হুমায়ূন আহমেদ। তাই তার প্রয়াণের দিনে অমর কানন নুহাশ পল্লীতে রোববার সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি মাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসতে থাকেন হুমায়ূন আহমেদের ভক্তরা। হলুদ পাঞ্জাবি পরা হিমু পরিবারের সদস্যরাও আসেন।

কবরে ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সাহিত্যিক, সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নুহাশ পল্লীতে কোরআনখানি, দোয়া, মিলাদ ও এতিমদের খাবার বিতরণসহ নেওয়া হয় নানা আয়োজন। আশেপাশের কয়েকশ’ এতিম শিশু দিনব্যাপী এসব অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন তার দুই পুত্র নিষাদ ও নিনিদকে সঙ্গে নিয়ে নুহাশ পল্লীতে সাড়ে ১১টার দিকে হুমায়ূন আহমেদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তিনি এ সময় মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়ায় অংশ নেন। এ ছাড়া হুমায়ন ভক্ত, হিমু ও রুপার চরিত্র সেজে প্রিয় লেখকের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অনেকে।

কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মেহের আফরোজ শাওন বলেন, হুমায়ূন আহমেদ চলে গেছেন আজ ১৪ বছর। নুহাশ পল্লীর কর্মকর্তা ও আমরাই হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ও মৃত্যুদিন পালন করে থাকি। এর বাইরে সরকার, রাষ্ট্র কারও কাছে কিছু চাওয়ার নেই, আগেও ছিল না।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সর্বসাধারণের জন্য কোনো লাইব্রেরি এখনো করা হয়নি। কারণ আমাদের বাংলাদেশের মানুষের স্বভাব একটু খারাপ। সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তকরণের এক-দুবার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু এরা বই নেয়, বই ফেরত দেয় না। এজন্য সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত লাইব্রেরি করার পরিকল্পনা এখন আর নেই। তবে হুমায়ূন আহমেদের যারা সত্যিকারের ভক্ত, তিনি নিজেই বই সংগ্রহ করবেন।

নুহাশ পল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, দিবসটি উপলক্ষে ভোর থেকেই আশপাশের কয়েকটি মাদরাসা ও এতিমখানার ছাত্রদের দিয়ে নুহাশ পল্লীতে কোরআন তিলাওয়াত করানো হয়। পরবর্তীতে হুমায়ূন আহমেদের দুই সন্তান নিষাদ ও নিনিতসহ স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, পরিবারের সদস্য এবং ভক্তরা কবর জিয়ারত ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নেন।

নুহাশ পল্লীতে আগত দর্শনার্থীরা বলছেন, হুমায়ূন না থাকলেও তিনি তার অমর সৃষ্টির মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন যুগ যুগ ধরে।

শ্রদ্ধা জানাতে আসা এক ভক্ত জানান, জননন্দিত লেখক বাঙালি পাঠক সমাজকে এক অভাবনীয় আনন্দ দিয়েছেন এবং বাংলা ভাষা যতদিন থাকবে, ততদিন তিনি পঠিত হবেন। তাকে স্মরণ করতেই প্রতি বছর এই নিভৃত পল্লীগ্রামে ভক্ত, অনুরাগীরা ছুটে আসেন। তবে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাঠকদের সুবিধার্থে নুহাশ পল্লীতে একটি লাইব্রেরির ব্যবস্থা থাকলে প্রিয় লেখকের বই পড়া ও স্মৃতিচারণ করার সুযোগ তৈরি হতো।

অন্যপ্রকাশের স্বত্বাধিকারী মাজহারুল ইসলাম বলেন, হুমায়ূন আহমেদ তার লেখা বই, চলচ্চিত্র, গান, পেইন্টিংয়ের মাধ্যমে মানুষের মাঝে আছেন। একুশের বইমেলায় তার নতুন বই নেই, কিন্তু পুরোনো বই পুনঃমুদ্রণ হচ্ছে। ১৪ বছর পরও পাঠকরা তার বই পড়ছে, নতুন পাঠক তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষকে বই পড়া শিখিয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। শুধু বাংলাদেশ নয়, পশ্চিমবঙ্গের পাঠকদের কাছেও তার বই পৌঁছে গেছে। এটি একজন লেখক হিসাবে তার একটি বড় প্রাপ্তি।

১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। তার বাবা ফয়েজুর রহমান ও মা আয়েশা ফয়েজ। ২০১২ সালে ১৯ জুলাই মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তিনি নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে মারা যান।

তবে বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী হুমায়ূন তার সৃষ্টিশীল কর্মের মাধ্যমে এদেশের ভক্ত ও অনুরাগীদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন- এমনটাই প্রত্যাশা লেখকের অনুরাগীদের।

প্রতিনিধি/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর