শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

গাইবান্ধার চরে মিলছে মূল্যবান খনিজ, শুরু বাণিজ্যিক উত্তোলন

তোফায়েল হোসেন জাকির, গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:১২ পিএম

শেয়ার করুন:

গাইবান্ধার চরে মিলছে মূল্যবান খনিজ, শুরু বাণিজ্যিক উত্তোলন

দীর্ঘদিন ধরে গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র নদের বালুতে মূল্যবান ভারী খনিজের উপস্থিতির আলোচনা থাকলেও এবার তা বাস্তবে রূপ নিয়েছে। জেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে ভারী খনিজ বালু উত্তোলনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অস্ট্রেলীয় প্রতিষ্ঠান এভারলাস্ট মিনারেলস লিমিটেড গাইবান্ধা সদর ও ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন চরে ভারী যন্ত্রপাতি স্থাপন করে খনিজ পৃথকীকরণের কাজ শুরু করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, কামারজানি, খারজানি ও বাটিকামারীসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে পাইলট প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর এখন পূর্ণাঙ্গভাবে খনিজ পৃথকীকরণ চলছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এ প্রকল্প থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার খনিজ সম্পদ আহরণের সম্ভাবনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গাইবান্ধা সদর ও ফুলছড়ি উপজেলার কামারজানি, গিদারি ও কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চল এবং কুড়িগ্রামের চিলমারী সীমান্তবর্তী এলাকায় খনিজ ব্লকটির অবস্থান। সরকারের খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি) পাঁচ ধরনের খনিজ উত্তোলনের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ৭৯৯ হেক্টর বালুচর ইজারা দিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, উত্তোলিত খনিজের ৪৩ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ সরকার এবং বাকি ৫৭ শতাংশ পাবে এভারলাস্ট মিনারেলস লিমিটেড।

7fdb2b02-2086-441d-af76-fc3889c50300

বর্তমানে কামারজানি বন্দরসংলগ্ন কড়াইবাড়ির চরসহ আশপাশের এলাকায় আধুনিক মিনারেল সেপারেশন প্ল্যান্ট ব্যবহার করে বালু থেকে পাঁচ ধরনের মূল্যবান খনিজ পৃথক করা হচ্ছে। এগুলো হলো—জিরকন, রুটাইল, ইলমেনাইট, ম্যাগনেটাইট ও গারনেট।

এর মধ্যে জিরকন সিরামিক, টাইলস ও রিফ্র্যাক্টরি শিল্পে ব্যবহৃত হয়। রুটাইল ব্যবহার করা হয় রং, প্লাস্টিক, প্রসাধনী ও ওষুধশিল্পে। ইলমেনাইট টাইটানিয়াম ধাতু ও ওয়েল্ডিং রড তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে ম্যাগনেটাইট ও গারনেট ব্যবহৃত হয় ইস্পাত, চুম্বক, সিরিঞ্জ এবং ঘর্ষণজাত (অ্যাব্রেসিভ) পণ্য তৈরিতে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাণিজ্যিকভাবে এ প্রকল্প সফল হলে দেশের খনিজ সম্পদ খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। এতে আমদানিনির্ভরতা কমার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

প্রকল্পের নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আহমেদ বলেন, “পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হওয়ার পর এখন নদী ও চরাঞ্চল থেকে বালু সংগ্রহ এবং খনিজ পৃথকীকরণের মূল কার্যক্রম চলছে। আমরা আশাবাদী, এই প্রকল্প প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে।”

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর