বান্দরবানের দুর্গম থানচি উপজেলার আলোচিত তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে সরকারি করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটি তিন্দু সরকারি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে পরিচালিত হবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (সরকারি মাধ্যমিক-৩ শাখা) শিরিন আক্তার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয় সোমবার (১৩ জুলাই) থেকে বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে সরকারি ঘোষণা করা হলো। একই সঙ্গে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের আত্তীকরণ করা হবে। তবে আত্তীকরণ করা শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি বদলিযোগ্য হবে না।
এর আগে, গত ২৮ জুন জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের উদ্যােগ নেওয়া হয়েছে।
গত ১৩ মে ঢাকা মেইলে সহকর্মীদের বেতন জোগাতে নৌকার মাঝি প্রধান শিক্ষক শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে সারাদেশে আলোচনার জন্ম দেয়।
২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৫৬জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থী পরিবার দরিদ্র হওয়ায় নিয়মিত বেতন দিতে পারে না। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে দীর্ঘদিন সংকট ছিল। তাই বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন বিদ্যালয়ের ছুটির দিনে পর্যটক পরিবহন করে যা আয় করতেন তা দিয়ে শিক্ষকদের সামান্য বেতন ও বিদ্যালয়ের আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটানোর ব্যতিক্রমী সংগ্রামের কাহিনি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। শুধু চলতি বছর এপ্রিল -মে মাসে নৌকা চালিয়ে ৪৯ হাজার টাকা আয় করে ৩০ হাজার টাকা সহকর্মীদের বেতন হিসেবে দিয়েছিলেন।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে প্রধান শিক্ষকের এই উদ্যোগ দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসন বিদ্যালয়ের জন্য একটি বোটের ব্যবস্থা, নতুন ভবন নির্মাণ ও ছাত্রাবাস সংস্কারের উদ্যোগ নেয়।
এরপর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে এলে তিনি বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের উদ্যোগ নিতে শিক্ষামন্ত্রীকে নির্দেশ দেন।
প্রতিনিধি/এফএ




